ঘরেই তৈরি করুন নিরাপদ ডিওডোরেন্ট

-পাউডার

আমাদের প্রতিদিনের ব্যবহারের একটি প্রসাধন হচ্ছে ডিওডোরেন্ট। এটি ছাড়া চলাটা অসম্ভবই হয়ে যায়, বিশেষ করে গরমের দিনে।

কিন্তু সবচেয়ে হতাশার কথা হচ্ছে বাজারে প্রচলিত বেশির ভাগ ডিওডোরেন্টেই বিপদজনক রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে যা খুব সহজেই দেহের চামড়া ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করে, ত্বকের জ্বালাপোড়া থেকে শুরু করে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ক্যান্সারেরও সৃষ্টি হতে পারে। কারণ এসব প্রোডাক্টগুলোতে অ্যালুমিনিয়াম থাকে যা ঘর্মনালী গুলোকে আটকে দিয়ে ঘাম হওয়াকে প্রতিরোধ করে। এই অ্যালুমিনিয়াম একটি বিষাক্ত পদার্থ যা আপনার দেহ থেকে শুধু ক্যালসিয়ামই সরিয়ে দেবে না বরং এটা আপনার দেহের এন্ডোক্রাইন ও লিম্ফোটিক সিস্টেম এর উপর বিপদজনক ফেলে যার ফলে ক্যান্সার হতে পারে।

এই অ্যান্টিপার্সপিরেণ্ট গুলোতে ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম আমাদের দেহের কোষের ঘর্মনালীতে অ্যালুমিনিয়াম আয়ন ঢুকিয়ে ঘামকে শুকিয়ে দেয়। এটা যখন কোষের ভেতরে ঢোকে তখন তা থেকে পানি বের হয়ে কোষের নালীগুলো ফুলে ফেঁপে বন্ধ হয়ে যায় ফলে আর ঘাম বের হতে পারে না।

FAD(Food & Drug Administration) এর নিয়মানুসারে সব অ্যান্টিপার্সপিরেণ্ট গুলোর গড়ে মানুষের ২০% ঘাম কমানোর ক্ষমতা থাকতে হবে। যার ফলে বেশির ভাগ প্রস্তুতকারকরাই তাদের প্রোডাক্টে ১০-২৫% মাত্রায় অ্যালুমিনিয়াম যোগ করে থাকে যা একটি শক্তিশালী নিউরোটক্সিন প্রোডাক্টের ক্ষেত্রে আসলেই খুব বেশি। এবার এসব অ্যান্টিপার্সপিরেণ্ট ব্যবহারের ফলে আমাদের দেহ থেকে ঘামের মাধ্যমে যে বিষাক্ত পদার্থ বের হয় তাতেও বাধা দেয়।

তাই আমাদের উচিত এসব প্রচলিত ডিওডোরেন্ট ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করা। খুব কম ও সহজলভ্য উপাদানের মাধ্যমে আপনি নিজেই তৈরি করতে পারেন প্রাকৃতিক ডিওডোরেন্ট। অবাক হচ্ছেন, তাহলে ঝটপট জেনে নিন তৈরির প্রক্রিয়াটি।

কীভাবে তৈরি করবেন-
-১/৪ কাপ বেকিং সোডা
-১/৪ অ্যারারুট পাউডার
-৫-৬ টেবিল চামচ নারিকেল তেল
-১০ ফোঁটা এসেন্সিয়াল অয়েল

বেকিং সোডা,অ্যারারুট পাউডার ও নারিকেল তেল একসাথে একটি চামচ দিয়ে খুব ভালো করে মিশিয়ে তাতে এসেন্সিয়াল অয়েল দিয়ে আবার ভালো করে মিশিয়ে একটি ঢাকনা ওয়ালা বক্সে নিয়ে ফ্রীজে রেখে দিতে দেবেন এবং প্রয়োজনমতো ব্যবহার করতে পারেন।এটা বেশ কয়েক মাস ভালো থাকবে।

সূত্র: ওয়েবসাইট

এ সম্পর্কিত আরো লেখা