ব্রঙ্কাইটিস ও তার সমাধান

438o0p1

ব্রঙ্কাইটিসের অ্যাটাক শীতকালে বেশি হলেও অতিরিক্ত গরমেও রেহাই পান না অনেকে। বিশেষ করে যাদের ঘেমে গিয়ে সর্দিকাশি লাগার প্রবণতা আছে বা যারা হাঁপানির সমস্যায় ভোগেন, তাদের ক্ষেত্রে এটা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

ব্রঙ্কাইটিস হলো এক ধরনের ইনফেকশন। ব্রঙ্কাইটিস হলে ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ করার টিস্যুটি (ব্রঙ্কিয়াল ট্রি) ফুলে ওঠে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্রঙ্কাইটিস ভাইরাসঘটিত হলেও ব্যাকটেরিয়া থেকেও হতে পারে। আবার অনেকে ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিসেও আক্রান্ত হতে পারেন।

ব্রঙ্কাইটিস যদি কারো ক্ষেত্রে পুরনো হয়, অর্থাত্‍ আগেও বেশ কয়েকবার এই অসুখটিতে আক্রান্ত হয়ে থাকলে ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিসের সম্ভাবনা থেকেই যায়। বিশেষ করে পরপর তিন বছর যদি ব্রঙ্কাইটিস অ্যাটাক হয়ে থাকে তাহলে আপনি আছেন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে। এই ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিসেরই অপর নাম ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সংক্ষেপে সিওপিডি। তবে অ্যাকিউট ব্রঙ্কাইটিস কিন্তু ফুসফুসের সেরকম কোনো সমস্যা না থাকলেও হতে পারে। এক্ষেত্রে বিক্ষিপ্তভাব কয়েকবার ব্রঙ্কাইটিসের অ্যাটাক হয়। ব্রঙ্কাইটিস যে কারো হতে পারে। তবে বয়স্ক মানুষ বা ছোট শিশুরা অন্যদের তুলনায় বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

ব্রঙ্কাইটিসের লক্ষণ
ব্রঙ্কাইটিসের লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কাশি। ব্যাকটেরিয়া থেকে ব্রঙ্কাইটিস হলে কফের রঙ হলুদ বা সবুজ হতে পারে। আবার ভাইরাল হলে সাদা কফ হতে পারে। কফযুক্ত কাশি, কাশতে গেলে বুকে ব্যথা, সাথে জ্বর ইত্যাদি এর লক্ষণ। মাঝে মাঝে নিঃশ্বাস নিতেও সমস্যা হতে পারে। স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ক্লান্ত লাগে।

এছাড়া অনেকের ক্ষেত্রে পা, পায়ের পাতা ও গোড়ালি ফুলতে পারে। মাঝেমধ্যে গলার শিরা চিড়ে গিয়ে রক্তও বের হতে পারে। বুকের ভেতর সাঁই সাঁই শব্দও হতে পারে। এ লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে চিকিত্‍সকের সাথে পরামর্শ করুন। তবে হাঁপানি বা অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে ব্রঙ্কাইটিসের সম্ভাবনাও বেশি। চারপাশের ধুলাবালি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সমস্যা আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে।

চিকিত্‍সা
ব্রঙ্কাইটিসের ক্ষেত্রে সবার আগে প্রয়োজন সময়মতো চিকিত্‍সা শুরু করা। ব্রঙ্কাইটিস হওয়ার ঠিক কতদিনের মধ্যে আপনি সেরে উঠতে শুরু করবেন, তা নির্ভর করে ইনফেকশন কতটা গুরুতর তার ওপর। ওষুধের মধ্যে প্রধানত অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়। তবে ভাইরাল ইনফেকশনের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক খুব একটা কাজে নাও আসতে পারে। এছাড়া রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ডাক্তাররা অন্যান্য ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন।

সাধারণত অ্যাকিউট ব্রঙ্কাইটিসের ক্ষেত্রে এক সপ্তাহের মধ্যে ইনফেকশন চলে যায়। ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা অবশ্যই বন্ধ রাখবেন। প্রচুর পরিমাণে তরল পান করুন। আর এর সঙ্গে চাই পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম।

প্রতিরোধের উপায়
ব্রঙ্কাইটিস রুখতে করতে চাইলে নিন কিছু পদক্ষেপ। যাদের হাঁপানির সমস্যা আছে তারা অবশ্যই নিন বাড়তি কিছু সতর্কতা। সারা বছরই রুটিন চেক-আপের মধ্যে থাকুন। ধূমপান এড়িয়ে চলুন। বাইরের ধুলাবালি থেকে নিজেকে যতটা সম্ভব বাঁচিয়ে চলুন। ইনফেকশন যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ভালো করে হাত ধোবেন। যোগাসনও খুব ভালো উপায়। কিছু কিছু ব্রিদিং এক্সারসাইজ আছে যেগুলো ব্রঙ্কাইটিস প্রতিরোধে খুবই উপকারী। নিয়মিত প্রাণায়াম ফুসফুসের সমস্যা দূর করে, রক্ত চলাচল বাড়িয়ে তোলে। এছাড়া এ ধরনের যোগাষন আর প্রাণায়াম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি করে। ব্রঙ্কাইটিস ঠেকাতে গেলে শুধু ওষুধের ওপর ভরসা না করে মেনে চলুন স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন।
সুত্রঃ ওয়েবসাইট

এ সম্পর্কিত আরো লেখা