ইবিতে সঙ্কট, কমছে আয়

eb

ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আয়ের অন্যতম উৎস ফাজিল (স্নাতক) ও কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদরাসা বোর্ড ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দেওয়ায় বছরে প্রায় ১১ কোটি টাকা আয় কমে যাবে ইবির।

আগে থেকেই ইবির বার্ষিক ৫০ কোটি টাকার ঘাটতির সাথে নতুন করে এ সমস্যা যুক্ত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টি চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থ ও হিসাব শাখার পরিচালক আকামুদ্দিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

অর্থ ও হিসাব শাখা থেকে জানা গেছে, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাজিল ও কামিল মাদরাসা বোর্ডে স্থানান্তরিত হলে প্রায় ১১ কোটি টাকা বাৎসরিক আয় থেকে বঞ্চিত হবে ইবি। ফলে ইউজিসির অনুমোদন ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ দেওয়া ১২৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতনভাতা বন্ধ হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেকে। কারণ এতদিন মাদরাসা ফান্ড থেকে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হতো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস থেকে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা-২ থেকে মঙ্গলবার এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের ১২৭৭টি ফাজিল (স্নাতক) ও ২৭৭টি কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদরাসার পাঠদান, অধিভুক্তি, নবায়ন, কেন্দ্র নির্ধারণ, পরিদর্শন, কোর্স বণ্টন, পরীক্ষা, ভর্তিসহ যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হবে বলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে মাদরাসার যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ ও দ্রুত নথি ও রেকর্ডপত্র ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়কে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতদিন এসব কার্যক্রম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হতো।

এখন থেকে ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মাদরাসার যাবতীয় কার্যক্রম চলে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব ও অর্থ শাখার প্রাপ্ত তথ্যমতে, ইবির অধীনে ১৪ শত মাদ্রাসার ভর্তি ফি, সনদ উত্তোলন ফি, পরীক্ষার ফি বাবদ মাদরাসা শাখা থেকে প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ থেকে ২২ কোটি টাকা আয় হতো। মাদরাসা সংশ্লিষ্ট কাজে খরচ করেও প্রত্যেক বছর ১০ থেকে ১১ কোটি টাকা আয় থাকত। মাদরাসা শাখার এ আয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালিত হতো।

সেই সাথে ২০১২ সালের ২১৭তম সিন্ডিকেটে ইউজিসির (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) অনুমোদন ছাড়াই অতিরিক্ত ১২৩ জন জনবল নিয়োগ দেন সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আলাউদ্দিন। আর মাদরাসার ফান্ড ও শিক্ষকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে এতদিন এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করা হচ্ছিল। কিন্তু এখন কোথা থেকে ১২৩ জন কর্মকর্তা কর্মচারীর বেতন দেওয়া হবে এ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব ও অর্থ শাখার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আকামুদ্দিন বিশ্বাস বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনিতেই ৪৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকার বাজেট ঘাটতি রয়েছে। মাদরাসা ফান্ড থেকে যে আয় হতো সেটাও এখন থেকে বন্ধ হয়ে গেল। সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আর্থিকভাবে চরম ধাক্কা খেল। এ সঙ্কট দ্রুত সমাধান না হলে সীমিত বাজেট দিয়ে প্রতিবছর দুই থেকে তিন মাস শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি প্রদান করা সম্ভব হবে না।’

আর্থিক সঙ্কটের বিষয়টি স্বীকার করে ট্রেজারার প্রফেসর ড. আফজাল হোসেন বলেন, ‘বর্তমান আর্থিক সঙ্কট দুইভাবে সমাধান হতে পারে। প্রথমত, ইউজিসি থেকে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী মাদরাসা শাখায় কাজ করত তাদের ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা। এখান থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরিয়ে নিলে বাজেটের ওপর চাপ কমবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সঙ্কটের বিষয়টি আমিও অনুভব করছি। বিষয়টি ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে। আশা করি তারা এ বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’

এ সম্পর্কিত আরো লেখা