সিরাজগঞ্জে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ

clash

সিরাজগঞ্জ পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দী দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে চলা দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। আহতদের সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি বাড়ি অগ্নিসংযোগ সহ অন্তত ৮টি বাড়িসহ দোকান ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, পৌর নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের শাহেদনগর গ্রামের কাউন্সিলর প্রার্থী শাহাদত হোসেন বুদ্দিন ও নতুন ভাঙ্গাবাড়ী মহল্লার সাহাদাত হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এ বিরোধ দুটি গ্রামের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। গত ৩ দিন ধরেই এই দুটি মহল্লার মধ্যে সংঘর্ষ চলে আসছিল। এরই জের ধরে সোমবার বিকেলেও উভয় গ্রাম পুনরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে সোমবার পর্যন্ত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে শাহেদনগর গ্রামের আলামিনের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় প্রতিপক্ষরা। পরে দমকল বাহিনী এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সময় সালামের বরফকলসহ ৮টি বাড়ি ও দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলেও এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে নবনির্বাচিত কাউন্সিলর সাহাদাত হোসেন জানান, নির্বাচনে পরাজিত হয়ে বুদ্দিন তার বাহিনী নিয়ে নতুন ভাঙ্গাবাড়ী গ্রামবাসীর ওপর দফায় দফায় হামলা চালায়। অপরদিকে পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থী শাহাদত হোসেন বুদ্দিন জানান, নতুন ভাঙ্গাবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনার সময় তার এজেন্টদের মারপিট করে বের করে দেয়। সাহাদত নির্বাচনে প্রভাবিত করে জয়লাভ করেছে। যে কারণে সমর্থকরা মেনে না নেয়ায় এই সংঘর্ষ শুরু হয়েছে।

এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) বাসুদেব সিনহা জানান, নির্বাচনের দিন-রাতে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এক দফা সংঘর্ষ হয়। এরই জের ধরে গত কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে সংঘর্ষ হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরো লেখা