শীতে অসহায় লালমনিরহাটের মানুষ, রোগের প্রাদুর্ভাব

lalmonirhat_y

গত ৭দিনে গোটা লালমনিরহাটে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে শীতে কাহিল হয়ে পড়েছে এ জেলার হতদরিদ্র মানুষগুলো। ২য় দফায় হঠাৎ শীত বেড়ে যাওয়ায় শীত বস্ত্রের অভাবে মানবেতর জীবন-যাপন করছে তারা।

এখন পর্যন্ত সরকারি কিংবা বেসরকারি উদ্যোগে যে পরিমাণ শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ করা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

শীতে নদী তীরবর্তী অঞ্চলের হাজার হাজার নিম্নআয়ের মানুষ চরম দুংখ-কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত সর্ব উত্তরের জেলা লালমনিরহাটে কনকনে শীতে সবচেয়ে বেশী দুভোর্গের শিকার হচ্ছেন খেটে খাওয়া দিন মজুর শ্রেণির মানুষ।

শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও রংপুর জেলার চরাঞ্চলের হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুংখ-কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

এদিকে, শীত জনিত নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে ফলে গত ৭ দিনে শীত জনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে অনেকেই চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

ঘন কুয়াশার কারণে হাইওয়েতে চলাচলকারী নৈশ কোচগুলো পড়েছে মহাবিপাকে। হেড লাইট জালিয়ে গাড়ীর গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০কিলোমিটারের বেশী তুলতে পারছেন না ড্রাইভাররা। চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলাচল করছে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন।

বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলের তৃতীয় বৃহত্তম লালমনিরহাটের বুড়িমারী শুল্ক স্টেশন থেকে প্রতিদিন শত শত আমদানীকৃত কমলা, আপেল, আঙুর, ও পাথরসহ ভারত থেকে আমদানীকৃত বিভিন্ন পণ্য বহনকারী ট্রাকগুলো পড়েছে আরো দুর্বিপাকে। ঘন কুয়াশার কারণে গন্তব্যে যেতে কয়েক ঘণ্টা সময় বেশী লাগছে বলে সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, ঘন কুয়াশার কারণে লালমনিরহাট থেকে ছেড়ে যাওয়া ও ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ও লোকালসহ সব ট্রেন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলাচল করছে।

ঘন কুয়াশার কারণে লালমনিএকপ্রেস প্রায় প্রতিদনিই লালমনিরহাট ও কমলাপুর স্টেশন থেকে দেরিতে ছাড়ছে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আগত যাত্রীরা প্রতিনিয়ত চরম বিপাকে পড়েছে।

এ সম্পর্কিত আরো লেখা