উত্তাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কাল হরতাল

hortal

১৮ ঘণ্টা ধরে উত্তাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া। মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যুর পর মঙ্গলবার সকাল থেকে চলছে মিছিল। ভাঙচুর হয়েছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত করায় বন্ধ রয়েছে ঢাকার সঙ্গে সিলেট ও চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ। শহরে খণ্ড খণ্ড মিছিল করছে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা।

আগামীকাল বুধবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করে শহরে মাইকিং করছে জামিয়া ইউনুছিয়া কর্তৃপক্ষ।

এর আগে সোমবার রাতে জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসা ছাত্রদের সঙ্গে ব্যবসায়ী ও পুলিশের সংঘর্ষের পর রাত পৌনে ২টায় হাফেজ মাসুদুর রহমান (২০) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে তার সহকর্মীরা। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ওই ছাত্র আহত হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মাসুদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের ভাদুঘর এলাকার হাফেজ ইলিয়াস মিয়ার ছেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাসুদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পরার পর পরই মাদ্রাসার শিক্ষক-শি্ক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। শত শত মাদ্রাসা শিক্ষক-ছাত্র হাতে লাঠি নিয়ে শহরের টিএ রোড, কুমারশীলের মোড়, লোকনাথ ট্যাঙ্কের পাড়সহ বেশ কয়েকটি স্থানে অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা সড়কের উপর কয়েকটি তোরণ ভাঙচুর করে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সমস্ত দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় শহরে যানচলাচল।

আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে শহরে বিজিবি মোতায়েন করা হয়। সকাল ১০টার পর মাদ্রাসা ছাত্ররা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে বঙ্গ সংস্কৃতি উৎসবের মঞ্চ এবং রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুর করে। রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় ফিসপ্লেট ভেঙে ফেলায় বন্ধ হয়ে যায় রেল চলাচল। শহরে বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তেমন তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

‌প্রসঙ্গত, সোমবার অটোরিকশা ভাড়াকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা ছাত্র, সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, ছাত্রলীগ ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষের সময় ব্যাপক টিয়ার শেল, রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। বিস্ফোরিত হয় শত শত ককটেল।

এ সম্পর্কিত আরো লেখা