ফারুক আহমেদের তিনটি কবিতা

faruk-ahmed

কবি হিসেবে ফারুক আহমেদ নিজের একটি অবস্থান করে নিয়েছেন পাঠক মহলে। সাহিত্য সম্পাদক হিসেবেও রয়েছে তার সুনাম। দৈনিক সমকাল, দৈনিক সকালের খবরের সাহিত্য সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন। বর্তমানে তিনি দৈনিক ইত্তেফাকে ফিচার সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন।

সিংহাসন
কোন রমণী যদি তার সিংহাসন উচিয়ে ধরে
তাহলে কিছু কীটপতঙ্গের মৃত্যু অবশ্যাম্ভাবী।
আমাদের শিল্পবোধ আছে বলে, আমরা তা
জেনেও পুনরায় নিমগ্ন হই ঢেউ গণনায়।

আমাদের আকাশের নীচে অনেক ঘরবাড়ি, ঘরের উপরে
অনেক সবুজ গাছপালা ছায়া দিয়ে থাকে। আর
বারান্দায় ঢেউগুলো বসে বসে চুলে বিলি কাটে।
একজন আরেকজনের কানে কানে বলে, বিকাল তাড়ানো
মোড়ের যুবক আমার সিংহাসনে বসতে চায়। চশমা ঝুলানো
যুবক আমার সিংহাসনে বসতে চায়, চুলে ঝুটি বাঁধা যুবক
আমার সিংহাসনে বসতে চায়। বলে আর হাসে, হাসে আর একজন
আরেকজনের দিকে ঠোঁট ফাঁক করে সাদা আসবাব দেখায়।
এই ভাবে রচিত হতে থাকে ইতিহাস নিরন্তর, আর সিংহাসন নিয়ে
ঘটতে থাকে অনেক কলহ। তবু আমাদের শিল্পবোধ আছে বলে
আমরা তা মেনে নিই আর নিমগ্ন হই ঢেউ গণনায়।

কৈশোরের নদী আমার
নিজেকে একটা নদী বলে রাজপথে ছেড়ে দিই
সারাদিন অজস্র ঘটনা এই নদীতে প্রবাহিত হয়ে
সন্ধ্যায় গিয়ে থামে, গভীর রাতে গিয়ে থামে।
থামে। যেন শাখানদীর মতো অন্য নদীতে মিলে যায়, যেন
অনেক পথ পেরিয়ে সমুদ্রের তরঙ্গে মাথা ঢুকিয়ে দিলো।
আমি নদী। এরকম লক্ষ লক্ষ নদী একটা গোলার্ধে
ঝুলে যায়, তোমার খোপা থেকে চুল ছেড়ে দিলে এই ঘটে। একেকটা
চুল কালো বিক্ষুব্ধ জলরাশির নদী ছাড়া কিছুই মনে হয় না তখন।

তোমার মাথা গোলার্ধ, আমার বুক নদী, তাতে কিভাবে মিলে
যেহেতু তোমার প্রতিটা চুল একেকটা বিক্ষুব্দ জলরাশির নদী এবং
সেসব চুল আমার বুকের সঙ্গে মিলিত হতে আসে। সুতরাং এই সত্যি।
অথবা নয়, অমিলের ভেতরে কত কত জীবন পার হয়ে গেলো।
পৃথিবীতে এতো অমিলের বিস্তারে যেকোনভাবেই হোক
কৈশোরের নদীকে অন্বেষণ করে বেড়াই। কৈশোরের নদী একটি চেয়ার,
টেবিল বা একটি কম্পিউটার নাম নিয়ে আমার সামনে বসে থাকে।

চোখের ব্যরিকেড
আমি দুটা চোখ পেরিয়ে যেতে চাই। সে চোখের
প্রত্যেকটা চাহনির ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা
লাল, নীল, বেগুনী, সবুজ- নানা রহস্যের খাদে
আমি আটকা পড়ে থেকে ছটফট করতে চাই না;
কোনমতেই না।
বেরিয়ে যেতে চাই বলে, অনেক পথ পেরিয়ে, অনেকটা পথ
গৃহভূমি থেকে গহীন বনভূমিতে চলে আসি।
বিপুল বনভূমি পেরিয়ে যাই, পেরিয়ে দেখি
এতোক্ষণ দুটা কালো ভ্র-র অরণ্যে ঘোরপাক খেয়েছি।
নদী সংলগ্ন নরম পলিমাটি পেরিয়ে শক্ত মাটিতে পা রাখার
পর মনে হলো মাটি এ মাটি নয় অধরের ধারাপাত।

এ সম্পর্কিত আরো লেখা