শীতেও ফাটবে না ঠোঁট

pink-lips

আজকাল শীতটা একটু বেশিই অনুভূত হচ্ছে। চাদর সোয়েটার আপনাকে উষ্ণতা দিলেও ত্বক কিন্তু নিষ্প্রাণ হয় শুষ্ক আবহাওয়ায়। বিশেষ করে ঠোঁট কাতর হয় সবচেয়ে বেশি। শুরু হয় টান টান অনুভূতি। সতর্ক না হলে চামড়া ফেটে রক্ত পর্যন্ত বের হয়ে আসতে পারে। কারো আবার ঠোঁটের কোণে ঘা হয়ে যায়। কথা বলতে, হাসতে, হা করে মুখে খাবার তুলতে কষ্টের আর শেষ থাকে না। তবে উপায় জানা থাকলে শীতেও ফাটবে না ঠোঁট। আসুন জেনে নেয়া যাক তেমন কিছু উপায়।

ভালো লিপবাম

শীতে ঠোঁটকে সুরক্ষা দিতে প্রথমেই বেছে নিতে হবে ভালো মানের লিপবাম। ঠোঁট শুকানোর হাত থেকে রক্ষা করতে এটি ব্যবহার করতে হবে। যারা দিনের বেশির ভাগ সময় ঘরের বাইরে থকেন, প্রয়োজনে পকেটে বা ব্যাগে তারা লিপবাম রাখতে পারেন। খেয়াল রাখতে হবে যেন ঠোঁট বেশি সময় শুকিয়ে না থাকে। এমনকি রাতে ঘুমানোর সময় হালকা করে লাগিয়ে ঘুমাতে পারেন। এতে ঠোঁট ফাটা থেকে মুক্তি পাবেন।

পর্যাপ্ত পানি পান

অনেকেই আছেন শীতে অলসতা করে পর্যাপ্ত পানি পান করেন না। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, দেহ পানিশূন্য হয়ে পড়লে ঠোঁট ফাটার সমস্যা দেখা দেয়। তাই শীতকালেও পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করে দেহকে হাইড্রেট রাখুন। এতে ঠোঁট ফাটার সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

শাক-সবজি খান

আমাদের দেশে প্রচুর পরিমানে শীতকালীন তরতাজা শাক-সবজি পাওয়া যায়। শীতকালে ত্বকের থেকে ময়েশ্চরাইজার কমে গেলেই ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। আপনি চাইলে প্রতিদিনের খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনতে পারেন। প্রোটিনের পাশাপাশি সবজির পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারেন। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার যেমন—ভাত, রুটি কমিয়ে দিলে দেহ, মন ও ত্বকের সতেজ ভাব আসবে। টক জাতীয় ফল যেমন জলপাই, কামরাঙা, জাম্বুরা, কমলা, বড়ই ভিটামিন সি-এর ঘাটতি মিটায়, সঙ্গে মুখে আসে রুচি। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ফল ও সবজির তুলনা নেই।

মাছের তেল

মাছের তেল বা চর্বিতে থাকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। একমাত্র মাছের তেল-চর্বি ক্ষতিকর উপাদানমুক্ত। ছোট-বড় উভয় মাছে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। এই উপাদান ক্যানসার, দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত রোগ, আর্থ্রাইটিস রোধে সাহায্য করে। পাশাপাশি ত্বক ভালো রাখে। ত্বকের মসৃণতা বাড়াতে সাহায্য করে।

জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো নয়

অনেকে ঠোঁট ফাটার হাত থেকে রক্ষা পেতে কিছুক্ষণ পরপরই জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে থাকেন। এই কাজটি করতে যাবেন না। এতে করে ঠোঁট আরও বেশি শুকিয়ে যাবে এবং ঠোঁট ফাটার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে।

অলিভ অয়েল

প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ত্বকের পাশাপাশি ঠোঁটেও ময়েশ্চারাইজ করতে ভুলবেন না। রাতে ভালো কোনো ময়েশ্চারাইজার অথবা অলিভ অয়েল ঠোঁটে লাগিয়ে ঘুমাতে পারেন। এতে ঠোঁট ফাটার হাত থেকে মুক্তি পাবেন।

এ সম্পর্কিত আরো লেখা