কক্সবাজারে এক ব্যবসায়ীকে পদপিষ্ট করে মারল বন্য হাতির দল

bangla_elephant

নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়ি থেকে এক ঝুড়ি দেশী মাছ কিনে ফিরছিলেন পরেশ বড়ুয়া।
তিনি একজন মাছ ব্যবসায়ী। সোনাইছড়ি থেকে মাছ কিনে রামুতে এনে বিক্রি করাই তার পেশা।
বুধবার ভোর ছটার দিকে রামুর সীমান্ত দিয়ে যখন ঢুকছেন তখনই দেখতে পান চারটি হাতি তার পথরোধ করে দাঁড়িয়ে আছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছিল ক্ষিপ্ত।
প্রাণভয়ে তিনি উল্টো দিকে ছুটে পালাতে গিয়ে দেখেন সেদিক থেকে এগিয়ে আসছে আরো দুটো হাতি।
তারপরের ঘটনা অনুমিত, উন্মত্ত হাতির পাল তাকে পদপিষ্ট করে মেরে ফেলে।
ঘটনাস্থল ঘুরে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে ঘটনার এই বর্ণনা দিচ্ছিলেন রামু থানার একজন উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম।
মৃতদেহ দেখে ফিরে জনাব ইসলাম বলছিলেন, “পাড়াইয়া তার এমন অবস্থা করছে একটা হাড্ডিগুড্ডিও আস্ত রাখে নাই”।
রামুর এই অংশটি মূলতঃ বন্য হাতি অধ্যুষিত।
রাস্তাগুলোতে কিছুক্ষণ পরপরই বন বিভাগ থেকে লেখা সতর্কবার্তা চোখে পড়বে, “হাতি পারাপার, সাবধানে চলুন”।
জনাব ইসলাম বলছিলেন, এখানে অনেক হাতি রয়েছে। একসাথে ১৫/২০টা করে চলে।
হাতিরা কদিন পর পর ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। ফসলের ক্ষয়ক্ষতি করে।
মানুষ পাহারা দেয় ঠেকানোর জন্য। কিন্তু কোন অভিযোগ করেনা।
সবাই জানে এখানে হাতি আছে।
আজ পরেশ বড়ুয়ার লাশও যখন তার পরিবারের কাছে তুলে দেয়া হচ্ছিল, তখনো তার পরিবার কোন অভিযোগ করেনি। বলছিলেন জনাব ইসলাম।
রফিকুল ইসলাম সপ্তাহ তিনেক আগের আরেকটি ঘটনা স্মরণ করলেন।
সেদিন একদল উন্মত্ত হাতি এক দরিদ্র পরিবারের মাটির ঘরে ঢুকে তছনছ করে ফেলে।
ভেতরে ছিলো তাদের ছোট্ট মেয়ে। তাকে সেখানে পেয়ে আছড়ে মেরে ফেলে।
জনাব ইসলামের ভাষায়, “এমন আছাড় দিছে, জাগায় শ্যাষ”।
ওই এলাকায় অবশ্য গ্রামবাসীরা প্রতি সন্ধেবেলায় তাদের ফসল পাহারা দেয়।
ক্ষেতের পাশে গাছে উঠে বসে থাকে, হাতির পাল এলে টিন পিটিয়ে শব্দ করে।
মাঝে মাঝে মাঝে হাতি চলে যায়, মাঝে মাঝে উল্টো তাড়া দেয়।
কখনো কখনো এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
“আমরা নিজেরাও যখন ওই এলাকায় কোনও আসামী ধরতে যাই তখন অনেক সাবধানে থাকি। আমি তো এখানকার মানুষ না, তাই এদের সাহস দেখে অবাক হই”, বলছিলেন মি. ইসলাম।
এদিকে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোঃ কায় কিসলু বলেন, সম্প্রতি এই এলাকায় সেনানিবাস তৈরি করা-সহ নানা কারণে হাতির চলাচলের পথ সঙ্কীর্ণ হয়ে গেছে।
ফলে হাতিরা তাদের নির্ধারিত চলাচলের পথ হারিয়ে এখন উল্টোপাল্টা চলাফেরা করে এবং প্রায়ই জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি করে।
#

এ সম্পর্কিত আরো লেখা