বর্ণিল আয়োজনে বকুলতলায় বসন্তবরণ

BASHANT-01

‘আজি দখিন-দুয়ার খোলা, এসো হে, এসো হে, এসো হে আমার বসন্ত এসো…।’ না, কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ডাকে বসন্ত না আসলে একটু বাড়িয়ে বললে দোষ কি! গণমানুষের কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায়, ‘ফুল ফুটুক আর না ফুটুক/আজ বসন্ত।’ আবহমান বাংলার প্রকৃতিতে আজ ফাগুনের ছোঁয়া, বকুল বৃক্ষের পাতার ফাঁক দিয়ে যেন উঁকি দিচ্ছে পূবের সূর্য। বলছে ‘আকাশে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিল নেশা কারা যে ডাকিল পিছে! বসন্ত এসে গেছে।’

মাঘের শীতকে বিদায় জানিয়ে বসন্তের আগদনে ফাগুনের ঝিরিঝিরি হাওয়ার সাথে কোকিলের কুহুতানে যেন মন ভরে যায়। চোখ জুড়িয়ে যায় বাগানের রক্তিম পলাশ, অশোক, শিমুল, কৃষ্ণচূড়া, কাঞ্চন পারিজাত, মাধবী আর গাঁদার ছোট ছোট ফুলের বর্ণিল রূপে। রাজধানীবাসীও তাদের নগর জীবনে আজ ভিন্নরূপ দেখে উচ্ছ্বসিত হয়। প্রায় তিন কোটি মানুষের কোলাহল পূর্ণ ঢাকা শহরে যানজটের বাড়তি কষ্ট যেন আজ ফাগুনের আগুনে ছাঁই হয়ে গেছে। সবাই সেজেছে বাসন্তী সাজে।

নারী-পুরুষ, বৃদ্ধা-বনিতা থেকে শুরু করে বাধ যায়নি কেউই। রয়েছে শিশু কিশোররাও। মনের আনন্দের সঙ্গে পোশাকেও জড়িয়ে আছে বসন্তের রঙ, বিশেষ করে মেয়েদের সাজসজ্জায় এ আবহটা অনেক বেশি। বাসন্তী রঙের শাড়ির সঙ্গে কেউ খোঁপায় গুঁজেছেন হলুদ গাঁদা কিংবা লাল গোলাপ। কারও বা কপালে টিপের সঙ্গে মাথায় ছিল নানা রকমের ফুলে জড়ানো টায়রা। ছেলেদের পাঞ্জাবি বা ফতুয়ায় ছিল বসন্তের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ রঙের আবহ। যেন ‘হারিয়ে যেতে আজ নেইকো মানা।’

ফাগুনের প্রথম দিনে ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করতে প্রকৃতি সেজেছে নতুন রূপে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় বসন্তকে বরণ করতে ছিলো বর্ণিল আয়োজন। ‘এসো মিলি প্রাণের উৎসবে’ স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয় বসন্ত উৎসব ১৪২২। শনিবার সকাল ৭টায় শিল্পী মতিহারের এসরাজ বাদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বসন্ত বরণের প্রথম পর্ব। এ পর্বের অনুষ্ঠান সূচিতে ছিল বসন্ত কথনপর্ব, প্রীতি বন্ধনী বিনিময়, আবির বিনিময়, দলীয় সংগীত, আবৃত্তি, একক আবৃত্তি, একক সংগীত, পাঠ, আদিবাসীদের পরিবেশনা ছাড়াও ছিল শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা। সাথে ছিল নৃত্য শিল্পীদের নৃত্য পরিবেশন। সকাল ১০টা ২০ মিনিটে চারুকলার বকুলতলা থেকে বের করা হয় বর্ণাঢ্য র‌্যালি। র‌্যালির ব্যানারে লেখা ‘এসো মিলি প্রাণের উৎসব।’ বসন্ত উৎসব ১৪২২।

আয়োজনে ছিল জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ। র‌্যালিটি টিএসসি হয়ে আবার বকুল তলায় গিয়ে শেষ হয়। সকাল ১১টা পর্যন্ত চলে এ পর্বের অনুষ্ঠান।

বিকেল ৩টা থেকে রয়েছে বসন্ত উদযাপনের দ্বিতীয় পর্ব। রাজধানীর লক্ষ্মীবাজারের বাহাদুর শাহ পার্ক স্মৃতি স্তম্ভের পাদদেশে, চারুকলার বকুল তলায়, ধানমন্ডির লেক সংলগ্ন রবীন্দ্র সরোবর উন্মুক্ত মঞ্চে এবং উত্তরার ৭ নং সেক্টরের পার্কের মাঠে একযোগে বসন্ত উদযাপন করা হবে। চারটি স্থানে প্রায় পনেরশ শিল্পীকর্মী যন্ত্রিদের অংশগ্রহণ থাকবে বলে আশা আয়োজকদের।

এ সম্পর্কিত আরো লেখা