‘দেশের জঞ্জাল পরিষ্কারে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য’

hasanul_haque_inu

ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও সামরিক শাসকদের রেখে যাওয়া জঞ্জাল আগলে রেখে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নিরাপদ হবে না, সামনেও এগুবে না। তাই গণতন্ত্রকে নিরাপদ করতে এবং এ সকল জঞ্জাল পরিষ্কারের কোনো বিকল্প নেই। এইজন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য।’
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ‘শহীদ ড. শামসুজ্জোহা স্মারক বক্তৃতা’ অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এসব কথা বলেন।
‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে জঞ্জালমুক্ত করতে হবে’ শীর্ষক প্রবন্ধে ইনু বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশেও নির্বাচিত সরকারের স্বৈরাচারী প্রবণতা কিংবা সামরিক স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধেও গণতন্ত্রের জন্য জাতি বার বার সংগ্রাম করেছে। তাই বাংলাদেশে গণতন্ত্র নিয়ে আলোচনা হবেই।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে তাই আরেক ধাপে উঠতে হলে জঙ্গি দমনের যুদ্ধ, নিজের শক্তি উন্নয়নের যুদ্ধ এবং বৈষম্য অবসান, সুশাসনের যুদ্ধ- এই যুদ্ধ চালাতে হবে, বিজয়ী হতে হবে। আর সে বিজয়ের প্রধান রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হচ্ছে ‘গণতন্ত্রে জঞ্জাল থাকবে না’। জঞ্জাল বাদ দিতেই হবে।’
তবেই কেবল বাংলাদেশ শান্তির মুখ দেখবে, সমৃদ্ধির স্বাদ গ্রহণ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ।
রসায়ন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, রাবি উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সায়েন উদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে শহীদ ড. জোহার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন ও তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ড. বিলকিস জাহান লুম্বিনীর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে শহীদ ড. জোহার জীবনালেখ্যও পাঠ করা হয়।
এর আগে শিক্ষক দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও রেজিস্ট্রারসহ প্রশাসনের ঊর্ধতন কর্মকর্তাগণ শহীদ ড. জোহার সমাধি ও জোহা স্মৃতিফলকে
ভোরে প্রশাসন ভবনসহ অন্যান্য ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।
এছাড়া বাদ জোহর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে কোরআন খানি ও বিশেষ মোনাজাত, শহীদ শামসুজ্জোহা হলে আলোচনা সভা ও প্রদীপ প্রজ্বালনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ দিন শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য খোলা রাখা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরো লেখা