১ এপ্রিল মুসলমানদের জন্য মর্মান্তিক দিবস

Nezame Islam

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি মাওলানা আবদুল হালিম ও মহাসচিব মাওলানা মোঃ আবদুল লতিফ নেজামী ১ এপ্রিলকে বিশ্বের মুসমানদের জন্য এক মর্মান্তিক দিবস হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন যে, ১৪৯২ সালের ১ এপ্রিল স্পেনে ৭ লাখ মুসলিম শিশু ও নরনারীকে হত্যার মধ্যদিয়ে এই দিবসের সূচনা হয়। মুসলিমদের সঙ্গে প্রতারণার স্মৃতি হিসেবে পাশ্চাত্যে আনন্দ দিবস হিসেবে ”এপ্রিল ফুল” পালিত হয়ে আসছে।
নেজামে ইসলাম নেতৃবৃন্দ গ্রানাডা ট্রাজেডিকে মুসলিমদের মধ্যে বিশ্বাসঘাতকতা, আত্মঘাতী ভ্রাতৃযুদ্ধ ও বিজাতীয়দের সঙ্গে বন্ধুত্বের করুণ পরিণতি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মুসলিম সভ্যতার জ্ঞান বিজ্ঞানের কেন্দ্রস্থল গ্রানাডার শেষ রাজা আবুল হাসানের পুত্র আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বুয়াবদিল ফার্ডিন্যান্ডের প্রতারণায় তারই সঙ্গে যোগ দিয়ে পিতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং ১৪৯২সালের ৩ জানুয়ারি গ্রানাডা দখল করে তা ফার্ডিন্যান্ডের হাতে তুলে দেয়। এ কাজে তাকে সাহায্য করেছিল তার মা আয়েশা। স্ত্রী ও সন্তানের বিশ্বাসঘাতকতায় পরাজিত গ্রানাডারাজ আবুল হাসান ভ্রাতা আল-জাগালের পক্ষে সিংহাসন ও রাজ্য ত্যাগ করেও শেষ রক্ষা হয়নি। গ্রানাডা পতনের পর বিশ্বাসঘাতক বুয়াবদিলের মীরজাফরের ন্যায় রাজা হওয়ার ভাগ্য হয়নি। বৃত্তিভোগী হিসেবে সে বিতাড়িত হয়। কিন্তু খ্রীস্টানদের বিরুদ্ধে এলাকা ভিত্তিক বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত যুদ্ধ চলতে থাকে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ১৪৬৯ সালে এরাগন রাজ ফার্ডিন্যান্ড এবং ক্যাষ্টাইলের রাণী ইসাবিলার পরিণয়ের পর স্পেনে খ্রীষ্টানরা শক্তিশালী হতে থাকে। কর্ডোভা, সেভিল. ভেলেন্সিয়া ইত্যাদি পতনের পর সম্মিলিত খ্রীস্টান শক্তি বিজয়ী ফার্ডিন্যান্ড ঘোষণা করেন, দেশের মুসলিমরা অস্ত্র ত্যাগ করে ১ এপ্রিল (১৪৯২) মসজিদে আশ্রয় নিলে ক্ষমা পাবে। মসজিদে মসজিদে আশ্রয় গ্রহণকারী নিরস্ত্র মুসলিম নরনারীর ওপর পরিকল্পিত হামলা ও মসজিদগুলোতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। আক্রমনে লাখ লাখ মুসলিম নরনারী ও শিশু হত্যা করা হয়। এ হত্যাকান্ড যদিও গ্রানাডার বড় মসজিদে কামান দাগিয়ে, অগ্নিসংযোগে করা হয়েছিল। একই কায়দায় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে স্পেনের অন্যান্য শহরে ও জনপদে সংঘটিত হয়। মুসলিমদের সঙ্গে এ প্রতারণার স্মৃতি হিসেবে পাশ্চাত্যে আনন্দ দিবস হিসেবে ”এপ্রিল ফুল” দিবস পালিত হচ্ছে।
#

এ সম্পর্কিত আরো লেখা