‘পিস টিভি’ বন্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ শুরু

peace_tv_zakir_naik_

বাংলাদেশে ‘পিস টিভি’ সম্প্রচারের অনুমতি বাতিল এবং কেবল অপারেটরদের সেটি না প্রদর্শন করার জন্য আগামীকাল থেকে প্রশাসনিক পদক্ষেপ শুরু করছে সরকার।
এর আগে দুপুরেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইন-শৃঙ্খলা সম্পর্কিত মন্ত্রীসভা কমিটির এক বৈঠকে বাংলাদেশে পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বাংলাদেশের আলেম ওলামারা বেশ কয়েক মাস ধরেই অভিযোগ করে আসছিলেন, এই টিভিতে প্রচারিত অনেক কিছু কোরান, সুন্নাহ এবং হাদীসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সেগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষার পরই এ ব্যপারে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
“এছাড়া জাকির নাইকের নির্দিষ্ট কিছু বক্তব্য একজন সাধারণ মানুষকে জঙ্গিবাদী তৎপরতার দিকে উস্কানি দেয়। সেকারণে আমরা এই টিভির সম্প্রচার বন্ধের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি।”
তথ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখন যে কোম্পানি বাংলাদেশে পিস টিভির সম্প্রচার করে তাদের অনুমতি বাতিল করা হবে এবং সোমবারই এ সংক্রান্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেবে তথ্য মন্ত্রণালয়।
এছাড়া কোন কেবল অপারেটর যদি বিনা অনুমতিতে পিস টিভির অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে, তাহলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাংলাদেশে গত বেশ কয়েক বছর ধরেই এই চ্যানেলটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। জনপ্রিয়তার কারণে দুবাই থেকে সম্প্রচারিত চ্যানেলটির অনুষ্ঠান এখন বাংলায় ভাষান্তর করে দেখানো হয়।
ফলে সরকারী উদ্যোগে চ্যানেলটি বন্ধ করে দেবার সিদ্ধান্ত হলেও তার ফলাফল কতটা দেখা যাবে তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।
চ্যানেলটির কয়েকজন নিয়মিত দর্শক বলছিলেন টিভিতে দেখা না গেলে তারা ইউটিউব বা ইন্টারনেটে ডাউনলোড করে অনুষ্ঠান শোনেন।
এদিকে, জঙ্গিবাদের বিস্তার প্রতিরোধে কোন একটি টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করার কতটা সুফল পাওয়া যাবে তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকেরা।
মিডিয়া বিশ্লেষক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলছেন, “এখন প্রযুক্তির বিকাশের ফলে যারা ‘পিস টিভি’ দেখতে চায় তারা বিকল্প পথে সেটি দেখার ব্যবস্থা করে নেবে। উল্টো এখন হঠাৎ করে সম্প্রচার বন্ধ হবার ফলে বরং আরো অনেকেই বিষয়টি নিয়ে উৎসাহী হয়ে উঠতে পারে।”
এদিকে, এর আগে শনিবারই ‘পিস টিভি’র সম্প্রচার বন্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। সূত্র : বিবিসি
#

এ সম্পর্কিত আরো লেখা