কলেজ সরকারি হওয়ায় ভোলায় আনন্দ র‌্যালী ও সমাবেশ

Abdul Jabbar College

ভোলা প্রতিনিধি : দীর্ঘদিন পর ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বার কলেজ সরকারি হওয়ায় বুধবার সকালে আনন্দ র‌্যালী করেছে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
সকাল ১১টার দিকে র‌্যালীটি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক সমুহ প্রদক্ষিণ করে। পরে থানার সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কাসেম ও অধ্যাপক এসএম গজনবী বক্তৃতা করেন।
বক্তারা দীর্ঘদিন পর বোরহানউদ্দিন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বার কলেজ সরকারি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি ও ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান) আসনের এমপি আলী আজম মুকুলকে ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন জানান।

ভোলায় দুই দিনে চারটি বাল্য বিবাহ বন্ধ
ভোলার বোরহানউদ্দিনে বাল্য বিবাহ রোধে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে দুই দিনে চারটি বাল্য বিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এ সময় বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনে বর-কনে ও কাজির জেল-জরিমানা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মোঃ আঃ কূদদুস এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন। ফলে ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বাল্য বিবাহ থেকে রক্ষা পেয়েছে চার স্কুলছাত্রী।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহি অফিসার আঃ কূদদূস জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার নেতৃত্বে ভ্রাম্যামান আদালত বাল্য বিবাহ রোধে মঙ্গলবার বেলা ১২ টার দিকে উপজেলার হাসাননগর ইউনিয়নের মধ্যমধলী গ্রামে কনের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় বাল্য বিবাহ পড়ানোর সময় শারমিন (১৩) নামের এক স্কুলছাত্রীর বাল্য বিবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। শারমিন ওই গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের মেয়ে। সে স্থানীয় ভৈরবগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। তার সঙ্গে একই উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের বাটামারা গ্রামের বাসু হাওলাদারের ছেলে রবিউল আলমের বিবাহের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় বাল্য বিবাহ পড়ানোর দায়ে বর ও কনের বাবার কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে জরিমানা আদায় করেন। ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাল্য বিবাহ প্রস্তুতির সময় ইউএনওর নেতৃত্বে ভ্র্যাম্যমান আদালত কুতুবা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কনের বাবা বাচ্চু নক্তির বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় কাচিয়া ইউনিয়নের আবদুল মন্নানের ছেলে বনি আমিনের সঙ্গে কুতুবা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাচ্চু নক্তির মেয়ে স্কুলছাত্রী তামান্নার বাল্য বিবাহ প্রস্তুতি চলছিল। বাল্য বিবাহ পড়ানোর দায়ে বর কাচিয়া ইউনিয়নের আবদুল মন্নানের ছেলে বনি আমিনকে পাঁচ দিনের কারাদ- প্রদান করা হয়। এ ছাড়া কাজী কুতুবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক এমএ বারীকে ১৫ দিনের কারাদ- ও কুতুবা মিয়া বাড়ি জামে মসজিদের খতিব নূর হোসেন নূরানীকে চার দিনের কারাদ- প্রদান করা হয়। এ সময় কনে স্কুলছাত্রী তামান্নার বাবা বাচ্চু নক্তির কাছ থেকে এক হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ ছাড়া বর-কনের আত্মীয় কাজলকে তিন দিনের কারাদ- ও শামিমের কাছ থেকে দুইশো টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
ভ্রাম্যমান আদালত সোমবার গভীর রাতে উপজেলার হাসাননগর ইউনিয়নের ফকিরকান্দি গ্রামের শফিউল্লাহর বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় শফিউল্লাহর মেয়ে ইয়ানুরের (১৪) সঙ্গে একই উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের চর গাজিপুর গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে এরশাদের বিবাহ প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় ইয়ানুরের বিবাহ বন্ধসহ বর এরশাদকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়। একই দিনে উপজেলা কুতুবা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুল চন্দ্র দের ১৩ বছরের মেয়ে নন্দিতা রাণীর বিবাহ বন্ধ করে দেয় ভ্রাম্যমান আদালত।
#

এ সম্পর্কিত আরো লেখা