নতুন ডাইনোসরের ফসিল আবিষ্কার, বিভ্রান্ত বিজ্ঞানীরা

Dianosorous

গত সপ্তাহে মার্কিন বিজ্ঞানীরা নতুন ধরনের একটি ডাইনোসরের জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন৷ টিরানোসরাস এক্স-এর মতো দেখতে এই ডাইনোসরদের হাত আপনাআপনি গজিয়ে ওঠে, যা বিস্মিত করেছে বিজ্ঞানীদের৷
মার্কিন বিজ্ঞানীরা বলছেন, আর্জেন্টিনায় পাওয়া এই দু’পায়ের জীবটির ফসিলের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৬ ফুট৷ এদের ওজন সাধারণত ৪৫০ কিলোগ্রাম৷ জীবাশ্মটি উত্তরাঞ্চলের রিও নেগ্রো প্রদেশে পাওয়া গেছে৷ সেখানে এ ধরনের ডাইনোসরররা গুয়ালিচো নামে পরিচিত৷ সেখানে বরবাসরত আদিবাসী তেহুয়েলচে সম্প্রদায় গুয়ালিচো বলতে প্রাণি ও বাতাসের শক্তিকে বোঝায়৷ প্রস্তরযুগের ডাইনোসরদের সবারই যে ধরনের হাত থাকে এরা তা থেকে ভিন্ন৷ এদের হাতও দেহের তুলনায় ছোট কিন্তু হাত আপনা-আপনি গজায়৷
তাই এদের কোনো নির্দিষ্ট ক্যাটেগরিতে ফেলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা৷ হাত খসে যাওয়ার পরও কীভাবে তা আবার গজিয়ে ওঠে এ বিষয়টি গবেষণা করার পরই তাদের একটি নির্দিষ্ট ক্যাটেগরিতে ফেলা যাবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা৷ এটি থেরোপড প্রজাতির ডাইনোসর, যে ধরনের ডাইনোসর দুই পা বিশিষ্ট এবং পাখির মতো৷ তাই টিরানোসরাস এক্স-এর সঙ্গে এদের মিল থাকলেও এরা যে একই প্রজাতি নয় তা বোঝা যায়৷ নাইজারে এ ধরনের একটি ডাইনোসরের ফসিল পাওয়া গিয়েছিল৷ ডেল্টাড্রমেয়াস নামের ঐ ডাইনোসর এদের পূর্বপুরুষ বলে ধারণা করা হচ্ছে৷
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এত বড় একটি দেহ এবং বিশাল একটা মাথা সত্ত্বেও এদের হাতের আকার যেন দেহের সাথে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়৷ আর হাতে আঙ্গুল মাত্র দুটো৷
জার্নাল প্লস ওয়ানে এই গবেষণা প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে৷ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষণার ফলাফলে যা বেরিয়ে এসেছে, তাতে বোঝা যায় টিরানোসরাস এক্স, গুয়ালিচো’র মতোই মাংসাশী এবং ২ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে উত্তর অ্যামেরিকায় এদের বাস ছিল৷
গবেষণায় বলা হয়েছে, সমতল ভূমিতে, যেখানে প্রায়ই বন্যা হতো, এমন জায়গায় ছিল এসব ডাইনোসরদের বাস৷ তাদের সঙ্গে বৃহৎ আকৃতির অন্য ডাইনোসররাও চলাফেরা করত ঐ অঞ্চলে৷ এসব বৃহদাকৃতির ডাইনোসরের মধ্যে ছিল লম্বা ঘাড় ও চার পা বিশিষ্ট তৃণভোজী আর্জেন্টিনোসোরাস৷ এদের দৈর্ঘ্য ছিল ১১৫ ফুটের মতো৷
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ৯ কোটি বছর আগে যেসব ডাইনোসর ছিল, তাদের বিশাল মাথা এবং ধারালো দাঁত শিকারের কাজে ব্যবহৃত হতো৷ হাতের কাজ খুব একটা ছিল না৷ যতদিন না মাথার সাথে তাদের লেজের সামঞ্জস্য হয়েছে, ততদিন হাতের কোনো ব্যবহার না থাকায় হাত দেহের তুলনায় এত ছোট ছিল৷
#

এ সম্পর্কিত আরো লেখা