জাল নোটের কারবারিদের ধরিয়ে দিলেই পুরস্কার

Indian Rupee

পুরস্কার ঘোষণা করে দেওয়া বিবৃতিতে চারজনের নাম। ধরিয়ে দিতে পারলে একেকজনের জন্য ২৫ হাজার রুপি। একজন বাদে বাকিদের ছবি দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে ঠিকানা।
গত বুধবার (২৭ জুলাই) ওই পুরস্কার ঘোষণা করেছে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। এই চারজনই ভারতীয় রুপির জাল নোটের বড় কারবারী বলে জানিয়েছে সংস্থাটি! জাল নোটের কারবারে অভিযুক্ত ফেরারি ব্যাক্তিদের হদিস জানতে পুরস্কার ঘোষণা এটাই প্রথম।
এনআইএ জানিয়েছে, ৬৫ লাখেরও বেশি ভারতীয় জাল রুপি উদ্ধারের একটি মামলায় তাদের খোঁজা হচ্ছে। এই তিন জনের এক জন পশ্চিমবঙ্গের পাশের রাজ্য ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার বাসিন্দা। বাকিরা পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার কালিয়াচকের। ওই চার জন মালদহ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে আসা জালনোট নিয়ে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিত বলে গোয়েন্দারা জেনেছেন। বাংলাদেশ থেকে কে বা কারা ওদের জালনোট সরবরাহ করত, গোয়েন্দারা তার খোঁজ করছেন। নির্দিষ্টভাবে তাদের নাম জানলে বাংলাদেশের সেই নাগরিকদের হদিস পেতেও পুরস্কার ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে, সেই সব বাংলাদেশিদের জাল নোটের কারবারের সূত্রে পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতে নিয়মিত আনাগোনা রয়েছে এবং ভারতেও তাদের এক বা একাধিক স্থায়ী ডেরা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
এনআইএ’র এক কর্মকর্তা বলেন, ‘খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলায় অভিযুক্ত জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের পলাতক সদস্যদের ধরতে আমরা পুরস্কার ঘোষণা করেছি। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশের নাগরিক। তবে ভারতের মধ্যে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই তাদের একাধিক ডেরা ছিল। পরবর্তীকালে তারা আরও ডেরা তৈরি করেছে।’ ওই অফিসারের বক্তব্য, ‘জাল নোটের কারবারিরা যারা শুধু বাংলাদেশে বসেই রিমোট কন্ট্রোলে চক্র চালাচ্ছে, তাদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে লাভ নেই। তাদের ব্যাপারে আমরা বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের সঙ্গে কথা বলছি। ওঁরা তথ্য দিয়ে যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন। এ দিকেও যাদের আস্তানা আছে, জাল নোটের কারবারের বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত সেই বাংলাদেশি নাগরিকদের সন্ধান পেতে পুরস্কার ঘোষণা করবো।’
ইতোমধ্যেই জাল নোটের কারবার সংক্রান্ত অন্যান্য মামলায় হোতা হিসেবে হাবিল শেখ, কালু শেখের মতো কয়েক জন বাংলাদেশি নাগরিকের নাম জেনেছে এনআইএ। এদের মধ্যে কালু শেখের নামে পুরস্কার ঘোষণা করার সম্ভাবনা আছে। এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘হাবিল অবশ্য অনেক বড় খেলোয়াড়। সে এ পারে (ভারতে) তেমন আসে না। কালু ওর ডানহাত। কালুর নিয়মিত যাতায়াত আছে মালদহে।’
এনআইএ-র বক্তব্য, ভারতীয় টাকার জাল নোটের কারবার মানে দেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক সন্ত্রাস। ভারতের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার চক্রান্ত। সেই কারবারে যারা সরাসরি জড়িত, তারাও সন্ত্রাসী। সেই জন্য অন্য অর্থাৎ প্রথাগত সন্ত্রাসীদের মতো তাদের হদিস পেতেও পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
যাদের সন্ধান পেতে গত ২৭ জুলাই এনআইএ পুরস্কার ঘোষণা করেছে, তারা হলেন- অশোক গুপ্ত ওরফে বড়াপাও, প্রশান্ত মণ্ডল, রুবেল মিয়া ও আনারুল। এদের মধ্যে অশোকের বাড়ি ঝাড়খণ্ডে।
#

এ সম্পর্কিত আরো লেখা