জাতীয় সঙ্কট মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি

ffff 01

খালেদা জিয়ার আহবানে ইতিবাচক সাড়া কাদের সিদ্দিকীর
জাতীয় সঙ্কট মোকাবিলায় খালেদা জিয়ার আহবানে ইতিবাচক সাড়া দেয়ার কথা জানিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, তার (খালেদা জিয়া) বহু কথায় আমি খুশি হয়েছি। মতের অমিল থাকতেও খুশি হয়েছি। জাতীয় প্রশ্নে জাতির স্বার্থের প্রশ্নে তার সঙ্গে আমার খুব একটা বেশি অমিল নেই। আমি জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতি করব না। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি নিয়ে আমি মরতে চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অথবা তাকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে আমি জড়িত হবো না। যদি সেসমস্ত ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জানতে পারি, তাহলে জীবন দিয়ে তা রোধ করবো। তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করব।
একইভাবে একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র কিংবা তাকে কোনো অপমান সহ্য করব না এবং তার প্রতিকারের চেষ্টা করব।
বৈঠকে বিষয়বস্তু ও ভবিষ্যতে কী করবেন তা জানাতে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় মতিঝিল দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানান কাদের সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, এই আলোচনার বিষয়বস্তু এবং ভবিষ্যতে আমরা কী করব, আগামীকাল (আজ) শুক্রবার সাড়ে ১১টায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মতিঝিলের অফিসে আমার মতামত ব্যক্ত করব। সেখানে আমি সব প্রশ্নের জবাব দেব।
গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’য় রাত ৮টা থেকে দুই ঘন্টা স্থায়ী এই বৈঠক হয়। বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় করণীয়সহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আহবানে জাতীয় সঙ্কটের সময়ে এখানে এসেছি। একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে, আরেকজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী অথবা দেশের সরকারের বিরুদ্ধে সবচাইতে জনপ্রিয় দলের আমন্ত্রণে তার সঙ্গে দেখা করতে আসায় এতো বাধা, এতো আপত্তি আমি কখনোই ভাবি নাই। সৌহার্দ্য পরিবেশে দীর্ঘ দুই ঘন্টা সময়ে আলোচনা হয়েছে। কিছু সময় একান্ত আলোচনাও হয়েছে।
এর আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, সারাদেশের মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। এখানে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের যে সৃষ্টি হয়েছে-এই অবস্থা কীভাবে নিরসন করা যায়, সেক্ষেত্রে গোটা জাতিকে কীভাবে ঐক্যবদ্ধ করা যায়, পরামর্শ নেয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করার জন্য বেগম খালেদা জিয়া আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমরা তার আমন্ত্রণ বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কাছে পৌঁছিয়ে দিয়েছিলাম। তারা জাতীয় সঙ্কটময় মুহূর্তে এগিয়ে এসেছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০ দলীয় জোটনেত্রী নন, বিএনপি চেয়ারপার্সন হিসেবে জাতীয় ঐক্য আহবান জানিয়েছেন। বৈঠকে ছিলেন বিএনপির এমন একজন নেতা জানান, দেশের বিরাজমান সঙ্কট মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কাদের সিদ্দিকী। তবে জামায়াত নিয়ে তিনি আগের মতোই আপত্তি জানিয়েছেন।
বৈঠকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ছাড়াও বৈঠকে দলটির প্রেসিডিয়ামের সদস্য নাসরিন সিদ্দিকী যিনি কাদের সিদ্দিকীর সহধর্মিনী, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী ও শফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজউদ্দিন আহমেদ ও আব্দুল্লাহ আল নোমান বৈঠকে ছিলেন।
গত ১ জুলাই গুলশান দুই নম্বরে হলি আর্টিজান বেকারীতে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার ইতালীয়, জাপানি, ভারতীয় ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকসহ ১৭ জন এবং তিনজন বাংলাদেশী নাগরিক নিহত হয়।
ওই ঘটনা পরপরই বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন করে জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান। যদিও ক্ষমতাসীন দল এই আহবানের সাড়া দেয়নি। এরকম পরিস্থিতি বিএনপি নেতৃবৃন্দ সরকার বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে এক প্লাটফর্মে আনতে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, গণফোরাম, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
তারই অংশ হিসেবে খালেদা জিয়া ওইসব রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাকে ‘চা-চক্র’ এর আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আর এরই অংশ হিসেবে কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে বৈঠক।
#

এ সম্পর্কিত আরো লেখা