হাতি উদ্ধারে বাধা অতি উৎসাহী মানুষ

indian_elephant_in_bangladesh

হারিয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা বাদেই ফের দৃষ্টিগোচর হয়েছে ভারতের আসাম থেকে প্রায় দেড় মাস আগে বাংলাদেশে ভেসে আসা বুনো হাতিটি।
প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক আজিজুর রহমান চৌধুরী জানাচ্ছেন, হাতিটি এখন জামালপুরের সরিষাবাড়ি পৌরসভা সদরের ঝিনাই নদীতে হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
ভোররাতে ওই স্থান থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে মাদারগঞ্জ উপজেলার ভাটিয়ালি গ্রামে ডাঙায় পেয়ে হাতিটিকে ট্রাংকুলাইজার বন্দুক বা বৃহৎ প্রাণী অজ্ঞান করবার অস্ত্র দিয়ে গুলি করেছিলেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।
কিন্তু হাতিটি গুলিবিদ্ধ হলেও অজ্ঞান না হয়ে ঘণ্টা খানেক পর শত শত উৎসুক মানুষ এবং উদ্ধারকারী দলের সদস্যের চোখের আড়ালে হারিয়ে যায়।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ট্রাংকুলাইজার বন্দুকের গুলি লাগা স্বত্বেও অজ্ঞান হল না কেন হাতিটি?
১৭ সদস্যের বাংলাদেশী উদ্ধারকারী দলটির প্রধান এবং বন বিভাগের কর্মকর্তা অসীম মল্লিক বলছেন, ট্রাংকুলাইজ করার জন্য একটি প্রাণীকে সময় দিতে হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে নিজের মত কিছুক্ষণ থাকতে দিতে হয় নিস্তেজ হবার জন্য।
“কিন্তু এখানে হয়েছে উল্টোটা। শত শত মানুষ টর্চ লাইট-সহ নানারকমের আলো আর ঢোল-বাদ্য নিয়ে উপস্থিত হয়েছে হাতি উদ্ধার দেখতে”।
“তারা আলো জ্বেলে এবং ঢোল বাজিয়ে এতটাই উত্যক্ত করছিল হাতিটিকে, যে কিছুক্ষণ ঝিমুলেও ঘন্টা খানেক পর হাতিটি গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে এবং সেখান থেকে চলে যায়”।
“আমরা দিনের বেলা উদ্ধার অভিযান চালাতে না পেরে বাধ্য হয়েছিলাম রাতে অভিযান চালাতে। রাত দশটা থেকে শুরু করলাম, কিন্তু দেখা গেল শত শত মানুষ ভোর সাড়ে তিনটে পর্যন্ত আমাদের পিছু ছাড়ল না”, বলছিলেন মি. মল্লিক।
তিনি বলছেন, গতরাতের অভিজ্ঞতা থেকে এখন আবারো কৌশল বদলের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
“আমরা আগামীকাল ভোর ৫-৬টার দিকে হাতিটিকে ডাঙায় পেলে আবার ট্রাংকুলাইজ করার চেষ্টা করব। আশা করি তখন পর্যন্ত উৎসুক জনতা আমাদের সাথে জেগে থাকবে না”।
এদিকে, জামালপুরের জেলা প্রশাসক শাহাবুদ্দিন খান বিবিসিকে বলছেন, তারা বিভিন্ন স্থানে অতি-উৎসাহী মানুষকে হাতিটিকে অনুসরণ থেকে নিবৃত্ত করতে প্রণোদনা সভা করছেন।
“কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, হাতিটি যেহেতু ক্রমাগত স্থান পরিবর্তন করছে, ফলে আমরা এক জায়গায় মোটিভেশনাল মিটিং শেষ করতে না করতেই দেখা যাচ্ছে হাতিটি নতুন এক স্থানে গিয়ে হাজির হচ্ছে”, বলছিলেন মি. খান।
গত ৯ দিন ধরে হাতিটিকে উদ্ধারের জন্য অনুসরণ করছে ১৭ সদস্যের বাংলাদেশী উদ্ধারকারী দলটি।
পরে ৩ সদস্যের একটি ভারতীয় উদ্ধারকারী দলও তাদের সাথে এসে যোগ দেয়।
কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়ে রবিবারই ফিরে আসে।
আসামে বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দলছুট হয়ে গত ২৭ জুন বাংলাদেশে প্রবেশ করে এই হাতিটি।
আনুমানিক ৫ টন ওজনের হাতিটি খাবারের অভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল বলে এর আগে জানিয়েছিলেন কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশে প্রবেশের পর উত্তরাঞ্চলীয় নদনদী ও চরাঞ্চল ধরে ক্রমাগত এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাচ্ছিল বন্য হাতিটি।
এই সময়কালে সে অন্তত অর্ধ সহস্র কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে।
#

এ সম্পর্কিত আরো লেখা