ব্যবসা-তাবলীগে সময় দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতারা

usa-awa1

ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথমবারের মতো বিএনপির প্রতিরোধ কর্মসূচি ও বিক্ষোভবিহীন পরিবেশে যুক্তরাষ্ট্রে অবতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি থেকে কেন্দ্রে কাউকে ঠাই দেয়া না হলেও বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় অন্তত অর্ধডজন নেতা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তবুও প্রধানমন্ত্রী বিনা প্রতিরোধে ও বিনা বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র পদার্পন করলেন।
যুক্তরাজ্য ও কানাডায় বিএনপির প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়ে কানাডায় গ্লোবাল ফান্ড সম্মেলন শেষে স্থানীয় সময় রোববার বিকেল ৩টায় এয়ার কানাডার একটি বিমানে নিউ ইয়র্ক সিটির লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরে পৌঁছান শেখ হাসিনা। তখন বিএনপির পক্ষ থেকে একটি কাকপক্ষীও হাজির হয়নি তাকে প্রতিবাদ জানাতে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ তাদের নেত্রীর জন্য বিশাল শোডাউন দিয়ে সুস্বাগত জানিয়েছে।
অনেকেই বলছেন এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি তাদের প্রতি কেন্দ্রের অবহেলার প্রতি নীরব ক্ষোভ জানিয়ে দিয়েছেন। যদিও প্রতিবারই যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীরা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিক্ষোভ ও কালো পতাকা প্রদর্শন করে আসছে।
এবার প্রতিবাদ বিক্ষোভ না হওয়ায় কমিটি বিহীন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের কাছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ফোনে যোগাযোগ শুরু করেছেন বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। যার ফলশ্রুতিতে সামনে হয়তো বিবদমান সব গ্রুপ মিলে হাসিনা বিরোধী প্রতিবাদ বিক্ষোভ আগের মতোই দেখা যেতে পারে।
প্রায় একযুগ ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির কমিটি নেই। এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বধারী এক সাংবাদিকের পরামর্শে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন না করে স্টেট কমিটিতে হাত দেয়া হয়েছিল। বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক এহসানুল হক মিলন সেই দায়িত্ব নিয়ে আসলে কমিটি গঠনসহ নানাবিধ কারণে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে দলীয় কোন্দল তীব্র হয়ে উঠে। ফলে মিলনও ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুক্তরাজ্য থেকে ৪ জন, মালয়েশিয়া ও সউদী আরব থেকে ১ জন করে ঠাঁই দেয়া হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কাউকেই কেন্দ্রে ঠাঁই দেয়া হয়নি। উল্টো যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা দলীয় কোন্দল আরও চাঙ্গা করে যাচ্ছেন। কমিটি বিহীন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের মদদে দলীয় কোন্দল চাঙ্গা আছে। এছাড়া এহসানুল হক মিলন, মুশফিক ফজল আনসারী ও সম্প্রতি বেবি নাজনিনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীরা।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয় ২০ লাখের অধিক বাংলাদেশি অধ্যুষিত যুক্তরাষ্ট্রে। মূল্যবান সময় ও অর্থ দিয়ে যারা বছরের পর বছর সাংগঠনিক কর্মকান্ডে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং মূলধারায় লবিং চালাচ্ছেন তাদের কোন কমিটি নেই উপরন্তু কেন্দ্রেও জায়গা নেই। এতে নেতা-কর্মীরা বিমর্ষ, ক্ষুব্ধ এবং হতাশায় নিপতিত হয়েছেন। এক একারোর পর ২০০৭ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র সিনেটের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জন কেরি, তদানীন্তন সিনেটর হিলারি ক্লিন্টনসহ ১৫ সিনেটর কড়া ভাষায় চিঠি দিয়েছিলেন বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দিন আহমদকে। সে চিঠিতে উল্লেখিত গাইডলাইন অনুযায়ী পরবর্তীতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আর ঐ চিঠির জন্যে দিনরাত লেগে থেকে তদ্বির করেছিল যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তারেক রহমান, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে ঐ সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও তারেক মুক্তি পরিষদের সমন্বয়ে বহির্বিশ্বে লাগাতার কর্মসূচি পালন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ব্রাসেলস ও সুইজারল্যান্ডে লবিং চালানো হয় ১/১১ পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটিয়ে গণতন্ত্র পুনর্বহালের জন্যে।
কিন্তু সেই যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অনেকে মূল্যায়িত না হয়ে ও কোন্দল-গ্রুপিং রাজনীতির ভবিষ্যত চিন্তা করে রাজনীতি ছেড়ে চাকুরী ও ব্যবসায় মনোযোগ দিয়েছেন। কেউবা তাবলীগ করছেন। সেখানে রাজনীতিতে বেহুদা সময় নষ্ট করার জন্য আল্লাহর কাছে আত্মঅনুশোচনা করছেন। অনেকে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বেগম খালেদা জিয়া বা তারেক রহমানের মতো কেউ থাকেন না বলেই কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিকে এত অবহেলা করা হচ্ছে আর দিনে দিনে কোন্দলও বাড়ানো হচ্ছে।
#

এ সম্পর্কিত আরো লেখা