শর্ত সাপেক্ষে সিটিসেলের তরঙ্গ বরাদ্দ খুলে দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

supreme-court-of-bangladesh

শর্তসাপেক্ষে মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়।
আগামী ১৯ নভেম্বরের মধ্যে ১০০ কোটি টাকা পরিশোধের শর্তে মোবাইল অপারেটর সিটিসেলের তরঙ্গ বরাদ্দ অবিলম্বে খুলে দেয়ার আদেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ। ওইদিনের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করা হলে বিটিআরসিকে ফের তরঙ্গ বরাদ্দ বন্ধ করতেও বলা হয়েছে। তরঙ্গ বরাদ্দ খুলে দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে সিটিসেলের পক্ষে আনা আপিল আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেয় আপিল বিভাগ।
বিটিআরসি’র পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। সিটিসেলের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। বিয়টির ওপর শুনানিতে দুইপক্ষের মধ্যে পাওনা-দেনা নিয়ে বিরোধ হলে সেটা কিভাবে সমাধান হবে, তা জানাতে আইনজীবীদের বলেছিলো আদালত। সে অনুসারে উভয়পক্ষের আইনজীবী আদালতে এর ব্যাখ্যা দেয়।
পাওনা টাকা না দেয়ায় গত ২০ অক্টোবর সিটিসেলের তরঙ্গ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিটিআরসি)। বিটিআরসি’র এ সিদ্ধান্ত স্থগিত চেয়ে গত ২৪ অক্টোবর আবেদন করে সিটিসেল।
http://en.sangbadkonika.com/wp-content/uploads/2016/07/citycell-btrc.jpg
সিটিসেলের আইনজীবীরা জানায়, আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক বিটিআরসি ও এনবিআরের ১৪৪ কোটি টাকা শোধ করা হয়েছে। এরপরও সিটিসেলের তরঙ্গ কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। গত ১৭ আগস্ট একমাসের শো’কজ নোটিশ দিয়ে সিটিসেলকে চিঠি দেয় বিটিআরসি। পৌনে ৫শ’ কোটি টাকা রাজস্ব বকেয়া থাকা সিটিসেল গ্রাহকদের প্রথমে ১৬ আগস্ট ও পরবর্তীতে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত বিকল্প সেবা গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয়। এর মধ্যে সিটিসেলের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২২ আগস্ট বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের হাইকোর্ট একক বেঞ্চ বিটিআরসি’র পক্ষ থেকে সিটিসেলকে দেয়া শো’কজ নোটিশের সময় পর্যন্ত এর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। গত ২৯ আগস্ট আপিল বিভাগ বিটিআরসি’র পাওনা পরিশোধে সিটিসেলকে দু’মাস সময় দেয়া । এর মধ্যে প্রথম মাসে তিন ভাগের দুই ভাগ ও দ্বিতীয় মাসে বাকি টাকা দেয়ার আদেশ দেয়া হয়েছিল।
বকেয়া টাকা দুই দফায় পরিশোধের শর্তে আদালত দুই মাস সময় দিলেও প্রথম কিস্তির পুরো অর্থ শোধ করতে ব্যর্থ হয় সিটিসেল। এ প্রেক্ষিতে ২০ অক্টোবর সিটিসেলের তরঙ্গ স্থগিত করা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় বিটিআরসি আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে মহাখালীতে সিটিসেলের প্রধান কার্যালয়ে ঢুকে তরঙ্গ বন্ধের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে।
১৯৮৯ সালে বাংলাদেশের প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর হিসেবে লাইসেন্স পায় বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড (বিটিএল), যা পরে মালিকানার হাতবদলে সিটিসেল নামে পরিণত হয়।
#

এ সম্পর্কিত আরো লেখা