ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘নাডা’

weather

সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সঙ্কেত
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্কতা সঙ্কেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে।
গভীর নি¤œচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী,চাঁদপুর,বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নি¤œাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২ থেকে ৩ ফুট বেশি উচ্চতার বায়ু তাড়িত জলোচ্ছাসে প্লাবিত হতে পারে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
শনিবার আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।
এতে বলা হয়, গভীর নি¤œচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ৫০ কি.মি. যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।গভীর নি¤œচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় গভীর নি¤œচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঘড় নাডার প্রভাবে সারাদিন খুলনা জুড়ে হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া গুমোট আকার ধারণ করেছে। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিচ্ছে। যা আরও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল আজাদ জানিয়েছেন, ‘নিম্নচাপের প্রভাবে শুক্রবার ভোর থেকে খুলনাসহ বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হচ্ছে। দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনায় ১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালার সৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ (তিন) নম্বর স্থানীয় বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।’
মংলা বন্দরের হারবার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দিনভর মংলা বন্দর ও আউটার অ্যাংকরে পণ্যবোঝাই জাহাজগুলোতে মাল বোঝাইয়ের কাজ হয়েছে। আর ভারীবৃষ্টি ও দমকা হাওয়া শুরু হলে রাতে বন্দরে পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ রাখা হয়। মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ঘুর্ণিঝড় নাডা মোকাবেলায় সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের এসিএফ মোহাম্মদ হোসেন জানান, ‘সন্ধ্যা থেকে ফিসিং ট্রলারগুলো সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। এছাড়া সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারি ও দুবলার চরের শুঁটকি জেলেদের নিরাপদে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
#

এ সম্পর্কিত আরো লেখা