হার দিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

mushfiqur-rahim

প্রথমে বোলারদের ব্যর্থতা এবং পরে ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৭৭ রানে হারলো বাংলাদেশ। ক্রাইস্টচার্চে স্বাগতিক ওপেনার টম লাথামের সেঞ্চুরি ও কলিন মুনরোর মারমুখী ব্যাটিং নৈপুণ্যে টস জিতে প্রথম ব্যাট করে ৭ উইকেটে ৩৪১ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় নিউজিল্যান্ড। জবাবে ২৬৪ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল কিউইরা।
ক্রাইস্টচার্চের হাগলি ওভালে নিজেদের অভিষেক ম্যাচে টস ভাগ্যে হেরে যান বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। বড় স্কোরের লক্ষ্যে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। তবে শুরুতে বড় সূচনা নিউজিল্যান্ডকে এনে দিতে পারেননি দুই ওপেনার মার্টিন গাপটিল ও টম লাথাম। গাপটিলকে ১৫ রানে ফিরিয়ে নয় মাস পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামার প্রত্যাবর্তনটা ভালোই করেন টাইগারদের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান।
৩১ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন লাথাম ও উইলিয়ামসন। এই জুটিও বড় স্কোর এনে দিতে পারেননি দলকে। দলীয় ৭৯ রানে উইলিয়ামসনকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান বাংলাদেশের তৃতীয় পেসার তাসকিন আহমেদ। ৩৬ বলে ৩১ রান করে ফিরেন উইলিয়ামসন। এই রান করার পথে দ্রুত ৪ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করে নিউজিল্যান্ডের হয়ে রেকর্ড গড়েছেন তিনি। আর বিশ্বের মধ্যে যৌথভাবে রেকর্ড তালিকার চতুর্থস্থানে রয়েছেন উইলিয়ামসন। ৯৬তম ইনিংসে ৪ হাজার রানের স্বাদ নেন কিউই দলপতি।
এরপর মিডল-অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যানকে দ্রুতই তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের রান তোলায় বাধা সৃষ্টি করেন বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। নিল ব্রুম ২২ ও জেমস নিশাম ১২ রান করে সাকিবের শিকার হন।
৪ উইকেটে ১৫৮ রানে পরিণত হওয়া নিউজিল্যান্ডকে এরপর শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছেন ওপেনার লাথাম ও ছয় নম্বরে নামা মুনরো। পঞ্চম উইকেটে এই দু’ব্যাটসম্যান বাংলাদেশ বোলারদের উপর চড়াও হন। এতে লাইন লেন্থহীন হয়ে পড়ে বাংলাদেশের বোলিং লাইন-আপ। ফলে বড় স্কোরের পথ পেয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।
পঞ্চম উইকেটে ওভারপ্রতি প্রায় ৯’র কাছাকাছি রান তুলে ১৫৮ রান যোগ করেন লাথাম ও মুনরো। এরমধ্যে ৪৭ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ও বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন লাথাম। শেষ পর্যন্ত ১৩৭ রান করে মুস্তাফিজুরের দ্বিতীয় শিকার হয়ে থামেন লাথাম। তার ১২১ বলের ইনিংসে ৭টি চার ও ৪টি ছক্কা ছিলো। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন মুনরোও। কিন্তু মুনরোকে ব্যক্তিগত ৮৭ রানে থামিয়ে ম্যাচে নিজের তৃতীয় উইকেট তুলে নেন সাকিব। ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৬১ বলে নিজের ইনিংসটি সাজান মুনরো। আর নিউজিল্যান্ডের স্কোর গিয়ে পৌছায় ৭ উইকেটে ৩৪১ রানে। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। আগেরটি ছিলো ৪ উইকেটে ৩৩৮ রান। ১৯৯০ সালে শারজাহতে করেছিলো কিউইরা। সাকিব ৩টি, মুস্তাফিজুর ও তাসকিন ২টি করে উইকেট নেন।
জয়ের জন্য ৩৪২ রানের বিশাল টার্গেটে সূচনাটা ৩৪ রানের করেছিলেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। কিন্তু ৩৪ থেকে ৪৮ রানে পৌছাতেই মিনি ধস নামে বাংলাদেশের ইনিংসে। ইমরুলের আউট দিয়ে শুরু হয়ে সৌম্য সরকার ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের আউটে ৩ উইকেটে ৪৮ রানে পরিণত হয় টাইগাররা। রিভিউ নিয়েও ১৬ রানে ইমরুল, সৌম্য ১ ও মাহমুদুল্লাহ শুন্য রানে ফিরেন।
হঠাৎ ধাক্কাটা সামলে উঠার চেষ্টা করেছিলেন দুই বন্ধু তামিম ও সাকিব আল হাসান। কিন্তু সামাল দেয়ার দায়িত্ব বেশিক্ষণ পালন করতে পারেননি তামিম ও সাকিব। সৌম্য ও মাহমুদুল্লাহকে ফেরানো নিউজিল্যান্ডের পেসার জেমস নিশাম থামিয়ে দেন তামিমকেও। ৫টি বাউন্ডারিতে ৫৯ বলে ৩৮ রানের ছোট্ট ও সুন্দর ইনিংস খেলেন তামিম।
দলীয় ৮১ রানে তামিমের বিদায়ের পর শক্ত হাতেই হাল ধরেছিলেন সাকিব ও মুশফিক। রান তোলায় বেশি কার্যকরী ছিলেন সাকিব। ফলে মারমুখী মেজাজেই হাফ-সেঞ্চুরি তুলেন সাকিব। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৩২তম ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরির ইনিংসটি ৫৯ রানে গিয়ে থামান সাকিব। ৫৪ বলের ইনিংসে ৫টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন তিনি। এই জুটির কাছ থেকে দল পায় ৫৭ বলে ৬৩ রান। তবে এই জুটিতে মুশফিকের অবদান ছিলো মাত্র ১৩ রান। অবশ্য পরে ইনজুরিতে পড়ে ৪২ রানে আহত অবসর নেন মুশি।
মাঝে ১৬ রান করে সাব্বির রহমান ফিরে গেলেও, ২৬৪ রান পর্যন্ত বাংলাদেশ যেতে পেরেছে মোসাদ্দেক হোসেনের ব্যাটিং নৈপুন্যে। আট নম্বরে নেমে চার-ছক্কার ফুলঝুড়িতে নিউজিল্যান্ড বোলারদের মাথা গরম করে দেন মোসাদ্দেক। ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ৪৪ বলে ৫০ রান করে অপরাজিত থেকে যান মোসাদ্দেক। পরের দিকের তিন ব্যাটসম্যান আউটের তালিকায় নাম তুললে, ৪৪ দশমিক ৫ ওভারেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ফলে নিজের ইনিংসটি আরও বড় করতে পারেননি মোসাদ্দেক। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে লোকি ফার্গুসন ও নিশাম ৩টি করে উইকেট নেন। ম্যাচের সেরা হয়েছেন কিউইদের টম লাথাম।
নেলসনে আগামী ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
নিউজিল্যান্ড : ৩৪১/৭, ৫০ ওভার (লাথাম ১৩৭, মুনরো ৮৭, সাকিব ৩/৬৯)।
বাংলাদেশ : ২৬৪/১০, ৪৪.৫ ওভার (সাকিব ৫৯, মোসাদ্দেক ৫০*, নিশাম ৩/৩৬)।
ফল : নিউজিল্যান্ড ৭৭ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : টম লাথাম (নিউজিল্যান্ড)
সিরিজ : তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিউজিল্যান্ড
#

এ সম্পর্কিত আরো লেখা