ব্যয়বহুল প্রকল্প ছাড়া ঢাকার যানজট কমানো সম্ভব?

traffic-jam

বাংলাদেশে নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে ব্যয়বহুল প্রকল্প ছাড়াই রাজধানী ঢাকার ভয়াবহ যানজট অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক ইন্সস্টিটিউট অফ গভর্ন্যান্স এ্যন্ড ডেভেলপমেন্ট প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ঢাকা শহরে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টে যারা কাজ করছে তাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে।
প্রধান গবেষক ড. শাহনেওয়াজ হোসেন বলেছেন, ঢাকার যানজটে কতটা সময় ব্যয় হয়, তাতে আর্থিক ক্ষতি কী হয় এবং কোন ধরনের যানজট ব্যবস্থাপনায় আসলে খুব বেশি অর্থের দরকার হয় না সেটি দেখার চেষ্টা করা হয়েছে গবেষণায়।
“ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টে ৩০টিরও বেশি এজেন্সি কাজ করছে তাদের মধ্যে ৬টি ভালোভাবে কাজ করছে। আমরা দেখেছি এদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে
বিশেষ করে ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন এজেন্সির মূল ভূমিকা পালন করা উচিত”।
কিন্তু এগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে এবং একের কাছেও অপরের জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মি: হোসেন।
মি: হোসেন বলেন, ঢাকার যানজট ব্যবস্থার ক্ষেত্রে হকারদেরকে দায়ী করা হয়, বাহ্যিকভোবে দেখা যায় এরা নিয়ন্ত্রণাধীন নেই। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে ঢাকায় যে আড়াই লাখের মতো হকার রয়েছে, তারারা সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় আছে।
“ঢাকার হাটার পথের বড় অংশ হকাররা দখল করে আছে। ফুটপাতে পার্কিং, যত্রতত্র দোকানের ব্যবস্থা করে ফুটপাত দখল -এটা কিন্তু যানজটের একটা বড় কারণ”।
“এই আড়াই লাখের মতো হকারকে যদি আমরা সুনির্দিষ্ট একটা ব্যবস্থার মধ্যে আনতে পারি তাহলে মাসিক পাঁচ কোটি টাকা তোলা যাবে এবং এই টাকাটা ট্রাফিক ম্যানজমেন্ট বা যানজট নিরসনে ব্যবহার করা যাবে”-গবেষণায় এমনটা উঠে এসেছে বলছেন মি: হোসেন।
এছাড়াও ঢাকায় প্রাইভেট কারের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে এটাও যানজটের একটা বড় কারণ।
মি: হোসেন বলছেন ঢাকায় এই প্রাইভেট কার বাড়ার বড় কারণ হলো পাবলিক ট্রান্সপোর্টের কোনও ব্যবস্থা নেই।
“ঢাকায় গাড়ির গতি অনেক কমে গেছে যে কারণে মানুষ আর্থিকভাবেও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে”-বলেছেন গবেষক শাহনেওয়াজ হোসেন।

এ সম্পর্কিত আরো লেখা