ভারতের ‘নিষ্ঠুরতা’ গুঁড়িয়ে দেওয়ার সময় এসেছে : নওয়াজ শরিফ

nawz-sharif

সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত বুরহান ওয়ানিকে এক ‘প্রতিশ্রুতিমান সহজাত নেতা’ হিসেবে বর্ণনা করে কাশ্মীর ইস্যুতে দিল্লিকে আক্রমণ করলেন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ।
বৃহস্পতিবার পাক সংসদে কাশ্মীর সংক্রান্ত দুই দিনের এক আলোচনাসভায় ২০১৬ সালের ৮ জুলাই নিহত হিজবুল জঙ্গি বুরহান ওয়ানির প্রশংসায় মুখর হলেন নওয়াজ শরিফ। সেই সঙ্গে কাশ্মীর যে বরাবরই পাকিস্তানের অংশ, সে কথাও তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ‘নিজ অধিকারের জন্য কাশ্মীরবাসীর সংগ্রাম’কেও কুর্নিশ জানিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী।
এদিন কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে সরাসরি ভারতের দিকে তোপ দেগে শরিফ বলেন, ‘বিশ্বের উচিত ভারতকে জানানো যে, যথেষ্ট হয়েছে। শহিদ বুরহান ওয়ানির আত্মত্যাগ কাশ্মীর আন্দোলনকে নতুন ভাবে উজ্জীবিত করেছে।’ ‘আক্রমনাত্মক ভারত’ প্রতিবাদরত কাশ্মীরবাসীর ওপর অত্যাচার করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। সেই সঙ্গে তিনি জানান, পাকিস্তান কাশ্মীরের বাসিন্দাদের আন্দোলন সমর্থন করে এবং তার জন্য নৈতিক, রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক সাহায্য করতে প্রস্তুত। বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে কাশ্মীরবাসীর দাবি সম্পর্কে জানাতে ইতিমধ্যে পাকিস্তান দূত পাঠিয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। এমনকি রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার অধিবেশনে তিনি নিজে যে সেই বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন, সে কথাও জানান শরিফ। প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রসঙ্ঘে দেওয়া ভাষণেও বুরহান ওয়ানিকে এক তরুণ শহিদ নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন পাক প্রধানমন্ত্রী। বলা বাহুল্য, তার প্রতিবাদে দিল্লি পাল্টা অভিযোগ করে যে, সন্ত্রাসবাদে শরিফ মদত দিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার পাক সংসদের বিশেষ আলোচনাসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিদেস বিষয়ক পরামর্শদাতা সরতাজ আজিজ জানান, আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠা প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কাশ্মীর ইস্যু এক কলঙ্ক বিশেষ।’ তাঁর মতে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সামনে কাশ্মীর ও প্যালেস্তাইন সমস্যার কোনও সমাধান নেই। কাশ্মীর দখলে রাখতে ভারতের যাবতীয় প্রস্তুতি যে আন্দোলন থামাতে ব্যর্থ, সে দাবিও জানান আজিজ। তাঁর মতে, কাশ্মীরের মানুষ নিজস্ব অধিকারের জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করছেন। আজিজ জানিয়েছেন, কাশ্মীর সমস্যার একমাত্র সমাধান হতে পারে গণভোটে, যা রাষ্ট্রসঙ্ঘের উদ্যোগে আয়োজন করা জরুরি।
#

এ সম্পর্কিত আরো লেখা