মাধ্যমিক স্কুলের শতবর্ষের অনুষ্ঠান রাতে : ছাত্রীদের গণ-ইভটিজিং

www

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা : কুষ্টিয়া কুমারখালীর যদুবয়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শতবার্ষিক উৎসব পালনে রাতের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অপর্যাপ্ত আলো ও অব্যবস্থাপনায় আগত ছাত্রী এবং বহিরাগত মেয়েদের উত্যেক্তের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো কোন অনুষ্ঠান গভীর রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া ও ছাত্রীদের নিরাপত্তাহীনতায় উক্ত্যক্ত হওয়ার ঘটনায় চরম ক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থী অভিভাবক এবং স্থানীয় সচেতন মহল। এদিকে শতবর্ষ এই বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনের কোন উন্নয়ন না থাকলেও লাখ লাখ টাকা খরচ করে নামিদামী শিল্পীদের এনে দেদারসে খরচ করছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা বিমুখ একটি মহল।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ঐ বিদ্যালয়ে রাত সাড়ে ৮ টার পর বর্ণিল আলোকসজ্জার মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শতবর্ষ এই বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা ব্যাপক উদ্দীপনা নিয়ে উপস্থিত হয় সকাল থেকেই। রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে বহিরাগত বখাটে ছেলেদের অশ্লীল আচরণ ও ইভটিজিং এর শিকার হয়ে অনেক ছাত্রীই অনুষ্ঠান থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। অনুষ্ঠানের নামে চলেছে ঐসব ছাত্রীদের উত্যক্ত করার মহাপ্রতিযোগিতা।
এদিকে আয়োজক কমিটি ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশেষ করে ছাত্রীদের জন্য কোন নিরাপত্তার সু-ব্যবস্থা না রাখায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের প্রবেশ দ্বার ও প্রধান সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় অনেকে অনুষ্ঠানে যাওয়া এবং বাড়ি ফেরার পথে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ শিক্ষার্থীরা ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে শতবর্ষ উৎসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেও তাদের চোখে মুখে অসন্তোষ ও ক্ষোভের ছায়া দেখা গেছে। আনন্দঘন পরিবেশে শতবর্ষ উৎসব পালনের কথা থাকলেও ইভটিজিং ও লাঞ্ছনার মত বিক্ষিপ্ত ঘটনার কারনে এলাকাজুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, অভিনব কায়দায় এসব বখাটে ছেলেরা কৌশলে মেয়েদের ছবি ক্যামেরাবন্দি করে ছোট ছোট জটলার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বাধা প্রদান করলেও তারা সেসকল মেয়েদের অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেছে। আবছা আলো ও আঁধার থাকায় ছাত্রীদের হাত ধরে টানা হেঁচড়ার ঘটনায় ছি ছি রব উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী ছাত্রীরা জানায়, “আমরা আগে জানলে এই অনুষ্ঠানে আসতাম না, আমাদের এতো রাতে ডেকে চরম বিপাকে ফেলেছে প্রধান শিক্ষক ও আয়োজক কমিটি। স্কুলের অনুষ্ঠানে বহিরাগতদের ঠেকানোর জন্য কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখেনি। শুধুমাত্র স্টেজে একটু আলোর ব্যবস্থা রেখেছে। আমাদের মত অনেক মেয়েই আজ ইভটিজিং এর শিকার হয়েছে। শতবর্ষ পালন অনুষ্ঠানের এই অবস্থার কারণে বিদ্যালয়ের মান ক্ষুন্ন হয়েছে। এটা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান না, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবশ্যই দায়বদ্ধতা থাকা উচিত ছিল”।
স্থানীয় অভিভাবকেরা জানান, এলাকার কিছু ছেলে বিভিন্ন কায়দায় ২ মাস ধরে চাঁদা আদায় করেছে। শতবর্ষ অনুষ্ঠান এসব ব্যবস্থা করলেও তারা রাতের জন্য মেয়েদের আসা যাওয়া এবং নিরপত্তার কোন ব্যবস্থায় রাখেনি। দূরদূরান্ত থেকে অনেক বখাটে ছেলে এসে মেয়েদের বিরক্ত করে। সব কিছু জানার পরেও ওরা রাতে এই অনুষ্ঠানটি করেছে। আমাদের মনে হচ্ছে, মেয়েদের সাথে খারাপ আচরণ করার জন্য পাশ্চাত্য দেশের মতো আলোকসজ্জা করেছে।
এদিকে শতবর্ষ এই বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনের কোন উন্নয়ন না থাকলেও লাখ লাখ টাকা খরচ করে নামিদামী শিল্পীদের এনে দেদারসে খরচ করা হয়েছে। চাঁদা আদায়ের এই অর্থ দিয়েও যদি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন হতো তাহলেও আমরা মেনে নিতাম এবং সকল শিক্ষার্থীরা ভাল একটা পরিবেশ পেত।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি চরম ব্যস্ত বলে কোন জবাব না দিয়ে সটকে পড়েন।
#

এ সম্পর্কিত আরো লেখা