লন্ডনে সংসদ ভবনের কাছে ‘সন্ত্রাসী হামলা’য় নিহত ৪ : আহত ২০

London Attack1

ব্রিটিশ পার্লামেন্ট চত্ত্বর ও পার্শ্ববর্তী ওয়েস্ট মিনিস্টার সেতুতে পৃথক সন্ত্রাসী ঘটনায় ৪ জন নিহত এবং পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে।
গতকাল স্থানীয় সময় বিকেলে এ ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
আততায়ী পার্লামেন্ট চত্ত্বরের রেলিংয়ে আছড়ে পড়ার পর পার্লামেন্টের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের ছুরিকাঘাত করে। পরে পুলিশ কর্মকর্তাদের গুলিতে সে আহত হয়। পরে হাসপাতালে নেবার পর তার মৃত্যু ঘটে।
এর আগে ওয়েস্ট মিনিস্টার সেতুর ওপর পথচারী ও সাইকেল আরোহীদের ওপর এলোপাথারি চার চাকার গাড়ি চালিয়ে দেয়। এসময় বাসচাপায় ঘটনাস্থলেই একজন মহিলার মৃত্যু ঘটে এবং আরো অন্তত ১০ জন পথচারী আহত হয়। পার্লামেন্ট চত্ত্বরে এক পুলিশকর্মী নিহত এবং আরো ৩ কর্মী মরাত্মক আহত হয়েছেন।
হামলার পরপরই আশপাশের লোকজন এলাকা থেকে সরে যাবার সময়ই অন্তত ৪টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পার্লামেন্ট অধিবেশন চলাকালে এ ঘটনার পার্লামেন্ট ভবন বন্ধ এবং অধিবেশন স্থগিত করে দেয়া হয়। এসময় পার্লামেন্ট কক্ষে থাকা প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’কে দ্রুত গাড়িতে করে সরিয়ে নেয়া হয়। পরবর্তী আর কোন হামলার আশঙ্কায় মেট্রো রেল সার্ভিসও বন্ধ করে দেয়া হয়। পার্লামেন্ট ভবনে অনেকেই আটকা পড়েন। তারা টুইট করে নিজেদের বন্দিত্বের কথা জানান।
সংবাদমাধ্যম জানায়, গতকাল বিকেলে চার চাকার গাড়িটি ওয়েস্ট মিনিস্টার সেতুর ওপর উঠে পথচারীদের চাপা দেয়। ভিকটিমরা এলোপাথারি ছুটোছুটি করতে গিয়ে কেউ কেউ টেমস নদীতে ছিটকে পড়ে বলে জানা যায়।
সেতুর ওপরেই জরুরী সেবা দেয়া হয়েছে আহত পথচারীদের। সেতুতেই বাসের তলায় চাপা পড়ে মারা যায় এক মহিলা পথচারী। ‘এশিয়ান’ বলে কথিত আততায়ী এরপর বিগ বেনের নিচে পার্লামেন্ট চত্ত্বরের রেলিংয়ে গিয়ে ধাক্কা খায়। সেখানে গাড়ি থেকে বেরিয়ে পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত করে। পরে এই পুলিশ সদস্য মারা যান।
‘মধ্যবয়সী’ হামলাকারীকে এরপর পুলিশ সদস্যরা গুলিতে আহত করে। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু ঘটে। কোন কোন গণমাধ্যমে হামলাকারীর সংখ্যা দু’জন বলে দাবি করা হলেও তা নিশ্চিত করেনি কোন নির্ভরযোগ্য সূত্র। হামলার পর পার্লামেন্ট ভবন এলাকায় আততায়ীর ব্যবহৃত ছুরিটি পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এদিকে হামলার খবর পাবার সঙ্গে সঙ্গে পার্লামেন্ট ভবন বন্ধ এবং অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’কে তার সরকারী গাড়িতে করে দ্রুত সরিয়ে নেয়া হয়। পরে ডাউনিং স্ট্রিট থেকে নিশ্চিত করা হয় যে, তিনি নিরাপদে আছেন। রাতে তার সভাপতিত্বে সরকারের জরুরী কোবরা কমিটির বৈঠক আহ্বান করা হয়।
লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী ঘটনা’ বলে আখ্যায়িত করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন ওয়েস্টমিনস্টারে সংসদ ভবন এলাকার ভেতরে এক ব্যক্তিকে ছুরি হাতে দেখা গেছে। গোটা সংসদ এলাকা বন্ধ এবং সংসদের অধিবেশন মুলতবি করে দেওয়া হয়েছে। সংসদের ভেতর থেকে রাজনীতিক ও সাংবাদিকরা টুইট করে জানিয়েছেন, তারা ভবনের বাইরে জোর আওয়াজ শুনতে পেয়েছেন।
সংসদের ভেতরে ছিলেন এমন এক ব্রিটিশ রাজনীতিককে উদ্ধৃত করে খবর দেওয়া হচ্ছে, এক ব্যক্তি পুলিশকে ছুরি মেরে আহত করেছে। এরপর সশস্ত্র পুলিশ তাকে গুলি করেছে বলে জানা যায়। তবে ঐ ব্যক্তি মারা গেছে কীনা তা শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিত করা যায়নি।
দ্বিতীয় আরেকটি ঘটনায় সংসদের পাশেই ওয়েস্টমিনস্টার সেতুর ওপর পাঁচ ব্যক্তির উপর একটি গাড়ি চালিয়ে দেবার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সংসদের ভেতর থেকে কাউকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।
বিবিসির ওয়েস্টমিনিস্টার সংবাদদাতা লরা কুয়েন্সবার্গ জানাচ্ছেন, পুলিশ তাকে বলেছে, একজনকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে। সংসদ সদস্যরা বলছেন, তিন থেকে চারটি গুলির আওয়াজ শোনা গেছে। গোটা এলাকা জুড়ে সশস্ত্র পুলিশের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
বিবিসির সংবাদদাতা ঘটনাস্থল থেকে জানাচ্ছেন অন্তত ১২ জন সেতুর উপরের হামলায় আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। সংসদ এলাকার ভেতরে আরও মানুষ আহত হয়ে পড়ে আছেন। সূত্র : বিবিসি, ডেইলি মেইল ও রয়টার্স।
#

এ সম্পর্কিত আরো লেখা