মা-বাবার কবরের পাশে শায়িত মিজু আহমেদ

Mizu Ahmed

তাজমুল আলম তাজু, কুষ্টিয়া থেকে..
বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের বিশিষ্ট অভিনেতা কুষ্টিয়ার সন্তান মিজু আহমেদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার বাদ মাগরিব শেষবারের মতো জানাজা শেষে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
বিকেল পৌনে ৫টায় মিজু আহমেদের লাশবাহী গাড়ি নিজ বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়ায় পৌঁছালে আত্মীয়-স্বজন ও ভক্ত অনুরাগীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
শেষবারের মতো একনজর প্রিয় মানুষটিকে দেখতে ঢল নামে কোর্টপাড়ার বাড়িতে। ছুটে আসেন কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
জানাযায় অংশ নেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমী, সাধারণ সম্পাদক কুষ্টিয়া সদর আসনের সাবেক এমপি সোহরাব উদ্দিন, কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, বিশিষ্ট গবেষক অ্যাডভোকেট লালিম হক প্রমুখ।
মিজু আহমেদ ১৯৫৩ সালের ১৭ নভেম্বর কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা বিশিষ্ট সমাজসেবক মরহুম আবুল মোহাম্মদের ২ মেয়ে ও ৩ ছেলের মধ্যে মিজু আহমেদ ছিলেন সবার ছোট। বড় ভাই মরহুম লতিফুর রহমান, মেজ ভাই অ্যাড. আনিচুর রহমান। সবার আদরের ছোট ছেলে ছিলেন মিজু আহমেদ।
চলচ্চিত্রে মিজু আহমেদ হলেও তার প্রকৃত নাম মিজানুর রহমান। শৈশবকাল থেকেই তিনি থিয়েটারের প্রতি খুবই আগ্রহী ছিলেন। কুষ্টিয়ার স্থানীয় নাট্যদল নূপুর’র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিস্ট্রি বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেন মিজু আহমেদ।
ব্যক্তি জীবনে তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক। বড় মেয়ে কেয়া বিবাহিত। তার স্বামী ব্যবসায়ী। ছোট মেয়ে মৌ ইউল্যাব থেকে এমবিএ শেষ করেছেন। ছোট ছেলে হাসনাত পড়াশোনা করছেন ময়মনসিংহের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। মিজু আহমেদের স্ত্রীর নাম পারভিন আক্তার।
১৯৭৮ সালে ‘তৃষ্ণা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। কয়েক বছরের মধ্যে নিজেকে সেরা খলনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
এছাড়া তিনি তার নিজের চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা ‘ফ্রেন্ডস মুভিজ’র ব্যানারে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন। অসাধারণ অভিনয়ের সুবাদে ১৯৯২ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন তিনি।
গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় আহমেদ ইলিয়াস ভূঁইয়ার পরিচালনায় ‘মানুষ কেন অমানুষ’ নামের একটি ছবির শুটিং করতে দিনাজপুর যাওয়ার জন্য সোমবার কমলাপুর থেকে ট্রেনে রওনা দেন। পথিমধ্যে হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি। বিমানবন্দর স্টেশনের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মিজু আহমেদের মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কুষ্টিয়ার বিশিষ্ট গবেষক, সাহিত্যিক ও নাট্যব্যক্তিত্ব অ্যাড. লালিম হক বলেন, মিজুর এ অকাল মৃত্যু কুষ্টিয়া তথা সারা দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যে অভাবনীয় ক্ষতি হলো তা কখনই পূরণ হওয়ার নয়।
#

এ সম্পর্কিত আরো লেখা