গণহত্যায় অভিযুক্ত হতে পারে মিয়ানমার : ইউএনসিএইচআর

UNHCR

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে ঢাকা ও নেপিদোর মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হলেও এখনও রাখাইন থেকে বিপন্ন ওই জনগোষ্ঠীর মানুষেরা পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। মঙ্গলবার জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের (ইউএনসিএইচআর) জেনেভা কার্যালয় থেকে এই অভিযোগ করা হয়েছে। রোহিঙ্গাবিরোধী ভূমিকার কারণে মিয়ানমার গণহত্যায় অভিযুক্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কমিশন। ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগ দায়েরের সুপারিশ করেছেন কমিশন প্রধান রাদ আল হোসেন। তবে মিয়ানমার এইসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কোনও রোহিঙ্গা শিবির থাকবে না বলে দাবি করেছেন কমিশনের মিয়ানমার দূত।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে সম্প্রতি মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করে। জেনেভায় মানবাধিকার কমিশনের অধিবেশনে রাদ আল হোসেন অভিযোগ করেন, চুক্তির পরও রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক খবরে মানবাধিকার কমিশনের শীর্ষ ব্যক্তি রাদ আল হোসেনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, আগস্টে সেনা অভিযান জোরদার হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৬ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তবে রাদ আল হোসেনকে উদ্ধৃত করে আরেক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে,পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো উচিত নয় বলে মনে করছে কমিশন। ‘যতোক্ষণ পর্যন্ত রাখাইন পরিস্থিতিকে যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ না করা যায়, ততোক্ষণ পর্যন্ত তাদের ফেরত পাঠানো ঠিক হবে না’ মন্তব্য করেছেন তিনি।
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্বিচার গুলি চালিয়ে হত্যা, গ্রেনেডের ব্যবহার, খুব কাছাকাছি অবস্থান থেকে গুলি করা, ছুরিকাঘাত, পিটিয়ে হত্যা এবং ঘরে মানুষ থাকা অবস্থায় তা জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন রাদ আল হোসেন। তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে গঠিত একটি ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ হিসেবে এইসব অপরাধের শিকার হওয়ার ঘটনাকে গণহত্যা ছাড়া আর কী বলা যাবে।
কমিশনে থাকা মিয়ানমারের দূত রাদ আল হোসেনের উত্থাপিত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথভাবে কাজ করছে। জরুরি অধিবেশন পর্বে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে কোনও রোহিঙ্গা শিবির থাকবে না’। তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘকে পরবর্তীতে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হতে পারে। তবে মিয়ানমারে জাতিসংঘের তদন্তের ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন তিনি।

এ সম্পর্কিত আরো লেখা