ইইউ-এর কাছে জেরুজালেমের স্বীকৃতি চেয়ে প্রত্যাখ্যাত নেতানিয়াহু

Netaniahu-Megherini

যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিকতায় ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকেও জেরুজালেমের স্বীকৃতির আশা করছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ফ্রেডেরিকা মোঘেরিনির সঙ্গে বৈঠকে এমন প্রত্যাশার কথা জানান তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহুর সেই আহ্বানে সাড়া দেননি মোঘেরিনি। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই ইস্যুতে জোটের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।
৬ ডিসেম্বর বুধবার জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন নিন্দার ঝড় বইছে তখনই ব্রাসেলস সফরে গেলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। ২০ বছরেরও বেশি সময় পর এটাই প্রথম কোনও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ব্রাসেলস সফর। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, শহরটিতে পৌঁছানোর পর আবারও ট্রাম্পের ঘোষণাকে সাধুবাদ জানান নেতানিযাহু। তিন হাজার বছর ধরে জেরুজালেম ইহুদিদের রাজধানী দাবি করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ট্রাম্প সত্যকেই যথাযথভাবে উপস্থাপন করেছেন’।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ফ্রেডেরিকা মোঘেরিনির সঙ্গে বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি সব কিংবা বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশ জেরুজালেমে তাদের রাজধানী সরিয়ে নেবে, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে এবং নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি ও শান্তির জন্য আমাদের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে যুক্ত থাকবে।’
নেতানিয়াহুর সেই আহ্বানে সাড়া দেননি মোঘেরিনি। তিনি বলেছেন, জেরুজালেম ইস্যুতে ‘আন্তর্জাতিক ঐকমত্যকে’ই স্বীকৃতি দিয়ে যাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ইহুদিদের ওপর হামলারও নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। মোঘেরিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি দ্বি রাষ্ট্র নীতির ভিত্তিতে জেরুজালেমকে দুই দেশের রাজধানী করাই ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সংঘাত নিরসনের ক্ষেত্রে একমাত্র বাস্তব সমাধান।’

এ সম্পর্কিত আরো লেখা