নিউইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলায় বাংলাদেশী আকায়েদ উল্লাহ গ্রেফতার : কম্যুনিটিতে আতঙ্ক

ANA NEWS 12-12-17-2

১১ ডিসেম্বর সোমবার। হঠাৎ করেই ভোর ৭টা ২০ মিনিটে বিশ্বের বাণিজ্যক রাজধানী হিসাবে পরিচিত নিউইয়র্ক সিটি যেন থমকে দাঁড়ালো। আতঙ্কিত হয়ে পড়লো প্রবাসী শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশীরা। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম বাস টার্মিনালে বিস্ফোরণের পর আহত অবস্থায় বাংলাদেশী আকায়েদ উল্লাহকে (২৭) গ্রেফতার করেছে নিউইয়র্ক সিটির আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। নিউইয়র্ক সিটির পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী আকায়েদ উল্লাহ আত্মঘাতী হামলাকারীদের মতো নিজের দেহে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় চারজন আহত হয়। এ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার গণমাধ্যমে প্রধান শিরোনাম আকায়েদ উল্লাহ এবং বাংলাদেশ। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং মুসলিম বিরোধী অবস্থানের পর এ হামলার ঘটনায় উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশীরা।
দুই দিন ছুটির পর সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস সোমবার নিউইয়র্কের ট্রেনস্টেশন গুলোতে কর্মজীবী মানুষের ঢল। তার উপর টাইম স্কয়ারে পোর্ট অথোরিটি টার্মিনাল আরো ব্যস্ততম এলাকা। সেখানে আকায়েত উল্লাহ নিজের শরীরে আত্মঘাতি বোমা বেধে হামলা চালায়। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টা ২০ মিনিটের দিকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে হামলাকারীসহ আরো চারজন আহত হয়। ঘটনার পর সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।
আকিয়াদ আইএস এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এই হামলার চেষ্টা চালায় বলে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যমে খবর এসেছে। নিউইয়র্কের পুলিশ কমিশনার জেমস ও নিল একে সন্ত্রাসী হামলার মতো ঘটনা বলে মন্তব্য করেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তির আইএসের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না- জানতে চাইলে তিনি এখনই এই বিষয়ে সরাসরি কিছু বলতে চাননি। তবে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র বিল ডি ব্লাজিও এটাকে সন্ত্রাসী হামলা না বলে একক হামলা হিসাবে অভিহিত করেছেন। হামলাকারী আইএস দ্বারা অনুপ্রাণিত বলে মনে করছেন নিউইয়র্ক পুলিশের সাবেক কমিশনার বিল ব্রাটন। ঘটনাটিকে তিনি পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা বলে মন্তব্য করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ বছর বয়সী আকায়েদ সাত বছর আগে আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। ব্রুকলিনের বাসিন্দা আকায়েদ প্রথমে ট্যাক্সি ক্যাব চালাতেন, পরে একটি ইলেকট্রনিক্সের কোম্পানিতে চাকরি নেন। তার বাড়ি সন্দ্বীপে এবং গত সেপ্টেম্বরে তিনি সর্বশেষ দেশে ফিরেছিলেন বলে জানা গেছে। আকায়েত উল্লাহর তার মা, দুই ভাই এবং বোনকে নিয়ে ব্রুকলীনে থাকতেন। তার বাবা কয়েক বছর আগেই মারা গিয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও, “একটি সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা হয়েছিল’ বলে মন্তব্য করেন। এদিকে, এ হামলার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে উঠে এসেছে বাংলাদেশের জঙ্গি উত্থানের বিষয়টি।
পুলিশ জানিয়েছে আহত আকায়েত উল্লাহকে গ্রেফতারের পর আহত অবস্থায় তাকে ম্যানহাটানের বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তদন্তকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আকায়েত উল্লাহ বলেছে, সন্ত্রাসী বা আইসিসিরে সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। সে ইন্টারনেটে বোমা বানানোর কৌশাল দেখে দেখে এই বোমা বানিয়েছেন। যে দোকানে সে কাজ করতো সেই দোকান থেকেই পাইন নিয়েছে এবং ৯ বোল্টের ব্যাটারি ব্য্বহার করেছে। এখনো তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে এই ঘটনায় বাংলাদেশী কম্যুনিটিতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন এবং আকায়েতকে মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে অভিহিত করেছেন। তারা আকায়েত উল্লাহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এদিকে ঘটনার পর নিউইয়র্ক সিটিতে কর্মরত বাংলাদেশী পুলিশ কর্মকর্তাদের সংগঠন বাপার পক্ষ থেকে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেই সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা বলেন, এটি একটি বিচ্ছিন্ন এবং একক ব্যক্তির ঘটনা। এই ঘটনায় বাংলাদেশীদের আতঙ্কিত না হবার আহবান জানান তারা।
এদিকে, অভিবাসীদে স্বর্গরাজ্য খ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যস্ততম শহর নিউইয়র্ক সিটিতে একজন বাংলাদেশী কর্তৃক বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে কমিউনিটিতে। যে সিটিতে বাংলাদেশীদের শক্ত অবস্থান সেই সিটিতেই এমন একটি ঘটনা অনাকাঙ্খিত বলে দাবি করেছেন অনেকে। একজন হামলাকারির দায় পুরো কমিউনিটির না হলেও এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চান না তারা। আরো জানাচ্ছেন, শিবলী চৌধুরী কায়েস।
নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলীনের ‘এভিনিউ এন বিটুইন ইস্ট ফরটি এইট’ স্ট্রীটের ওপরই বসবাস করতেন নিউইয়র্কে আত্মঘাতী বিস্ফোরণকারী আকায়েদ উল্লাহ। ঘটনার পর থেকেই পুরো বাড়িটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। একই সাথে মূলধারার প্রায় বেশিরভাগ গণমাধ্যমের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।
একজন বাংলাদেশী কর্তৃক অনাঙ্খিত এমন বিস্ফোরণকে বড় ধারণার নাশকতা বলতে নারাজ প্রবাসী সাংবাদিকরা। বলেন, বাংলাদেশের বৃহত্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় সন্দ্বীপের বাসিন্দা হলেও আকায়েদ উল্যার বসবাস ছিল ঢাকায়। ফলে নিউইয়র্কের বাংলাদেশী অধ্যুষিত ব্রুকলীনে বসবাসকারি স্বন্দীপ কমিউনিটিতে সে ছিল অপরিচিত।
এ ধরনের ঘটনা কমিউনিটির জন্য অপ্রত্যাশিত বলে দাবি অনেকের। জানান, আগামিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে হবে।
একজন বাংলাদেশী কর্তৃক এমন ন্যাক্কারজন ঘটনার প্রভাব পড়েছে পুরো কমিউনিটিতে। নিউইয়র্ক সিটির কর্মব্যস্ত বাংলাদেশীরা অনেকেই তাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।
ব্রুকলীনের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট’সহ বাংলাদেশী মালিকানার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগত অনেকেই জানান তাদের হতাশার কথা।

এ সম্পর্কিত আরো লেখা