শিশুর স্তন্যদানে যে ১৩টি ভুল ধারণা থাকা উচিৎ না

baby

স্তন্য দান কখন করা উচিৎ, কিভাবে করা উচিৎ ইত্যাদি নিয়ে প্রচলিত রয়েছে বহু ভুল ধারণা। এ লেখায় দেওয়া ১৪টি বিষয় সব মাকেই জানা উচিৎ। যা তাদের ভুল ধারণাগুলো দূর করতে সহায়তা করবে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফক্স নিউজ।

স্তন্যদানে শেখার কিছু নেই
অনেকেই মায়ের দুধ প্রাকৃতিকভাবেই আসে এবং এক্ষেত্রে শেখার কিছু নেই বলে মনে করেন। যদিও স্তন্যদান প্রাকৃতিকভাবে এলেও এতে অনেক বিষয় আছে, যা মায়েদের শিখে নিতে হয়। এ জন্য অভিজ্ঞ স্বাস্থ্যকর্মী বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হলে এতে উপকার পাওয়া যাবে।

সদ্যভূমিষ্ঠ শিশুরা দুধ পানের পক্ষে খুব ক্লান্ত থাকে
অনেক নারীই মনে করেন সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু ঘুমিয়ে থাকলে তাকে ঘুমাতে দেওয়া উচিৎ। যদিও এ ধারণা সঠিক নয়। বাস্তবে অবস্থাভেদে প্রতি এক থেকে তিন ঘণ্টা অন্তর অন্তর শিশুকে দুগ্ধ পান করাতে হবে। এ সময় শিশু ঘুমিয়ে থাকলেও খাওয়ানোর জন্য উঠিয়ে দিতে হবে।

মায়ের দুধ সরবরাহ কম
কোনো শিশুর সব সময় দুধ পান করতে চাওয়ার অর্থ এটা নয় যে, মায়ের দুধ কম। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মায়ের দেহ পর্যাপ্ত দুধ উৎপাদন করে এবং শিশুকে বোতলের দুধ খাওয়ানোর প্রয়োজন হয় না। এক্ষেত্রে শিশুর ওজনে পরিবর্তন পরিমাপ করেই কেবল পার্থক্যটা বোঝা যেতে পারে।

স্তন থেকে দুধ পান করানো কষ্টকর
অনেক নতুন মা স্তন্যদুধ পান করানো কষ্টকর বলে মনে করেন। যদিও এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে সত্য নয় বরং তার বিপরীতটাই সত্য।

ফিডার বোতল বা চুষনি শিশুর বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে
সাধারণ অবস্থায় শিশু ফিডারের নিপল ও চুষনির পার্থক্য ধরতে পারে। তবে মায়ের দুধ ঠিকঠাক পান করা শেখার আগেই যদি শিশুকে ফিডার দেওয়া হলে তা শিশুর বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। এক্ষেত্রে তাই শিশুর জন্মের চার থেকে ছয় সপ্তাহের আগে এটি করা উচিৎ নয়।

শিশুর রুটিন তৈরি করতে হবে
শিশুর নিজস্ব রুটিন থাকলেও সে রুটিন অন্যদের সঙ্গে মিলবে না। তাই খাওয়া-খেলার সে রুটিন শিশুর মতো করেই পালন করতে দিতে হবে। মায়ের দুধ দ্রুত হজম হয়ে যায়। তাই শিশু যখনই চাইবে তখনই দুধ দিতে হবে।

স্তন ফুলে গেলে গরম সেক দিতে হবে
শিশুকে স্তন্য দানকারী মায়ের কোনো সংক্রমণ বা অনুরূপ কারণে স্তন ফুলে যেতে পারে। এক্ষেত্রে অনেকেই তাকে গরম সেক দিতে বলতে পারেন। যদিও ঠাণ্ডা শেক এক্ষেত্রে ফুলা কমাতে এবং দুধ নিঃস্বরণ স্বাভাবিক করতে সহায়তা করবে।

বাইরের খাবারে পেটে গ্যাস সৃষ্টি
শিশুর বয়স ছয় মাস হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে বাইরের খাবার খাওয়াতে হয়। কিন্তু অনেক মা মনে করেন এসব খাবারে শিশুর পেটে গ্যাস হয়। যদিও বিষয়টি সঠিক নয়।

শিশুর দুগ্ধপানে মায়ের ওজন কমে
স্তন্য দানকারী মা যদি স্বাভাবিকভাবে পর্যাপ্ত খাবার খায় তাহলে তার ওজন কমবে না।

স্তন্যদান জন্মনিয়ন্ত্রণে সহায়ক
অনেকেই মনে করেন শিশুকে স্তন্যদান করা হলে সে সময় মায়ের গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা কমে। যদিও বাস্তবে এমনটা দেখা যায় না।

স্তন্যদানে স্তনের আকার নষ্ট হয়
অনেকেরই ধারণা শিশু মায়ের দুধ পান করলে এতে মায়ের স্তনের আকার নষ্ট হয়। যদিও এটি পুরোপুরি সত্য নয় এ কারণে যে, স্তনের আকার নষ্ট হয় গর্ভধারণসহ বেশ কিছু কারণে।

অস্ত্রোপচার হলে স্তন্যদান করা যাবে না
অনেকেরই ধারণা মায়ের কোনো অস্ত্রোপচার করা হলে শিশুকে স্তন্যদান করা যাবে না। যদিও এটি ভুল ধারণা। স্বাভাবিকভাবে কোনো অবস্থাতেই স্তন্যদান বন্ধ করা যাবে না।

স্তন্যদানের সময় পান করা নয়
অনেকেরই ধারণা রয়েছে শিশুকে স্তন্যদানের সময় মা কোনো পানীয় পান করতে পারবেন না। যদিও এটি ভুল ধারণা।

এ সম্পর্কিত আরো লেখা